মিরনজিল্লা সিটি কলোনির জমি হরিজন বাসিন্দাদের নামে দলিল করে দেওয়ার দাবি

উচ্ছেদ কার্যক্রম বাতিল করে মিরনজিল্লা সিটি কলোনির জমি হরিজন বাসিন্দাদের নামে দলিল করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কলোনির বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিরনজিল্লা হরিজন সিটি কলোনি ভূমি রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে মিরনজিল্লা হরিজন সিটি কলোনি ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সংগঠক হেমন্ত দাষ বলেন, মিরনজিল্লা হরিজন সিটি কলোনি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের আদেশ হয় গত ১৩ জুন। এর বিরুদ্ধে আপিল করে ঢাকা সিটি করপোরেশন। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিতের আবেদন চেম্বার জজ ৪ জুলাই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আজ (৪ জুলাই) সেদিক বিবেচনা করে আমরা এই মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর মিরনজিল্লার হরিজন বাসিন্দারা শত শত বছর ধরে এই জমিতে বসবাস করে আসছে। বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমলে তাদের এখান থেকে কেউ উচ্ছেদ করেনি। এখন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পরে এসে শেখ হাসিনা সরকার তাদের উচ্ছেদ করতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মিরনজিল্লা হরিজন কলোনি উচ্ছেদের ঘটনা যে সরকারি মদদে হয়েছে তা বোঝা কঠিন নয়। আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে বলবো, অবিলম্বে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম বাতিল করে মিরনজিল্লা সিটি কলোনির বাসিন্দা হরিজনদের নামে জমি দলিল করে বুঝিয়ে দিন।

এ সময় প্রতিরোধ গড়ে তুলে বংশ পরম্পরায় বাস করে আসা জমির ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হেমন্ত দাষ।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল চৌধুরী, বাসদ মার্কসবাদীর সীমা দত্ত, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির মনজুর মঈন, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ নাসু, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূইয়া, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ সাধারণ সম্পাদক শামীম ইমাম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, সাউথ এশিয়ান দলিত ফোরাম বাংলাদেশ চাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ভীমপাল্লী ডেভিড রাজু, দলিত ট্রাস্টের সভাপতি রাজেন্দ্র কুমার দাস, বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের কাইউম হোসেন, টাফ ঢাকা অঞ্চলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।