আলু, পেঁয়াজ ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের রেশনের মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্ষুধার তাড়না মেটাতে হয় বাড়তি আয়ের জন্য স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে, না হয় অর্ধাহার-অপুষ্টিতে দিন কাটাতে হচ্ছে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট আয়োজিত ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবিলম্বে রেশনের মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা, প্রতারণা চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার চর্চা বন্ধ করা এবং শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট সরকারের তত্বাবধানে জমা করার দাবিতে' বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবি জানান নেতারা।
সমাবেশে নেতারা বলেন, করোনা সংক্রমণের লকডাউনের সময়ও পোশাক শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতি ও রফতানির প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছিল। কিন্তু সরকার এবং মালিকরা শ্রমিকদের সেই ত্যাগের কোনও স্বীকৃতি দেয়নি। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের সময় শ্রমিকদের জীবন যাত্রার ব্যয় বিবেচনা ছাড়া শুধু মালিকের স্বার্থ রক্ষা করে একপাক্ষিক মজুরি ঘোষণা করেছে; যা ছিল শ্রমিকের দাবির অর্ধেক। অথচ সেই মজুরি বৃদ্ধির পরপরই ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে যাওয়া এবং নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে শ্রমিকের নামেমাত্র যে মজুরি বাড়ানো হয়েছিল, তাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নেতকাদের দাবি, দেশের প্রধান রফতানি আয় যাদের রক্ত-ঘামে অর্জিত হয়, সেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের পুষ্টিকর এবং সুষম খাবারের যোগান নিশ্চিত করতে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে, অন্যথায় রেশনের মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং মহার্ঘ্য ভাতা চালু করতে হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম শরিফ, আল আমিন হাওলাদার শ্রাবণ, আহমেদ জীবন, মোহাম্মদ সোহেল এবং মোফাজ্জল প্রমুখ।