দেশকে অস্থিতিশীল করতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে কিছু ছাত্র মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। সোমবার (১৫ জুলাই) সংগঠনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র দেশব্যাপী সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে মানুষের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী এই ষড়যন্ত্রমূলক তথাকথিত আন্দোলনের নামে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এতে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে জীবনবাজি রেখে যারা মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীণ সরকার সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রচলন করেছিলেন। যা স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের আমলেই বহাল ছিল। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করতে ও সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় স্বার্থে কোটা প্রথা চালু করা হয়। কিন্তু বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি কুচক্রিমহল বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করে দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে।
চিকিৎসক নেতারা বলেন, ২০১৮ সালেও এরকম পরিস্থিতির কারণে সরকার নির্বাহী আদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করায় একটি পক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে ওই পরিপত্রের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে। হইকোর্ট বিভাগ সেই সরকারি আদেশের কিছু অংশ বাতিল করে কোটা বহাল রেখে রায় প্রদান করেন। পরবর্তীকালে সরকারের আপিলের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশকে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করে এবং আন্দোলনকারীদেরকে রাস্তা থেকে ব্লকেড উঠিয়ে মানুষের জন-জীবনের অচলাবস্থা নিরসন করতে ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন। এরপরও দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে চর দখলের মতো রাজপথ দখল প্রচেষ্টা খুবই নিন্দনীয়। আমরা মনে করি, দেশের সরকার প্রধানের বক্তব্য প্রত্যাহার চাওয়া, বিজ্ঞ আদালতকে অমান্য করা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করা ছাত্র-ছাত্রীরা এদেশের সুনাগরিক নয়।
বিএমএ নেতারা আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের আদালতের নির্দেশনা মেনে সরকারের প্রতি আস্থা রেখে রাজপথ ছেড়ে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার জন্য আহ্বান জানায়। আমরা আশাবাদী, আদালত এ বিষয়ে যথাসময়ে তাদের সুচিন্তিত রায় প্রদান করবেন।