গুলি-গ্রেফতারের প্রতিবাদে শহীদ মিনারে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি, হত্যা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে জাতীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সর্বস্তরের চিকিৎসক ও মেডিক্যাল-ডেন্টাল শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই প্রতিবাদ করেন তারা।

এসময় চিকিৎসকরা শিক্ষার্থীদের ঢালাও গ্রেফতারের প্রতিবাদ করেন এবং অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের নিঃস্বার্থ মুক্তির দাবি করেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রতিবাদ করেন তারা।

451098121_1039230041157264_3058217364841597665_n‘আমার ভাই মরলো কেন? জবাব চাই জবাব চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’; ‘দালালি না রাজপথ?, রাজপথ রাজপথ’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

বক্তব্যে বিক্ষোভকারী চিকিৎসকরা ডা. সজীবকে হত্যা, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের আক্রমণ ও গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি সব শ্রেণিপেশার মানুষের অধিকার আদায়, নিহতদের বিচারের দাবি ও অবৈধভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনের দাবি করেন চিকিৎসকরা।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একজন চিকিৎসক বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এভাবে গ্রেফতার ও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যার নজির কোনও স্বাধীন দেশে নেই। রাস্তায় বিনা কারণে মোবাইল ফোন চেক করার অধিকার প্রশাসনের নেই। অথচ পুলিশ প্রশাসন তা প্রতিনিয়ত করছে।

453365898_405630252626433_2685281495708825290_n(1)ওই চিকিৎসকরা আরও বলেন, আমরা চাই একটা সুন্দর স্বাধীন দেশ। এই দেশটা স্বাধীন মনে হচ্ছে না, যেখানে লাশ পড়ে থাকে রাস্তায়, নির্বিচারে গুলি করা হচ্ছে। এতে আমার ভাই মারা যাচ্ছে, আমার বোন মারা যাচ্ছে, ছেলেমেয়েরা মারা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় চেয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম যেন সংবিধান না শিখে বড় হয়— উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাজাকার শব্দটি উচ্চারণের পাশাপাশি বলেছেন, যে সব শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে তারা নাকি সংবিধান সম্পর্কে অবগত নয়। ছোট স্কুলব্যাগে ১৪-১৫টি বই থাকে, কিন্তু সংবিধানের একটি লাইনও লেখা নাই। রাজনৈতিক দলগুলো সবসময়ে চেয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম যেন সংবিধান না শিখে বড় হয়।’