চাকরিচ্যুত ৫০ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি ফেরত চান

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরি হারানো পুলিশ ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চাকরিতে পুনর্বহাল চান। বুধবার (২১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি) এ কে মাহফুজুল হক সাংবাদিকদের কাছে এ দাবির কথা জানান। ২০০৯ সালে তাকে পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টরের পদ থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

মাহফুজুল হক বলেন, আমাদের এখানে যারা আছেন সবাই বিগত ১৬ বছরে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা, জেলে দেওয়া, ওএসডি করা, চাকরিচ্যুত করা হয়। তিনি বলেন, বিনা দোষে আমাদের পুলিশের দু’জন কর্মকর্তাকে পাঁচ বছর করে জেল খাটানো হয়েছে। তাদের কোনও অপরাধ ছিল না। তাদের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা থাকতে পারে। কিন্তু সেজন্য জেল হতে পারে না।

মাহফুজুল হক সাংবাদিকদের আরও বলেন, ২০০৯ সালে তিনিসহ ২৪ জন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বরখাস্ত করা হয়। আরও ২৬ জনকে বিভিন্নভাবে পদোন্নতি বঞ্চিত করে বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে ফেলে রেখে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সচিবের কাছে তাদের দুটি দাবি জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রথম দাবিটি হলো- আমরা ৫০ জন কর্মকর্তা এখানে একত্রিত হয়েছি। যাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, প্রত্যেককে তাদের ন্যায্য পাওনা দিতে হবে। দ্বিতীয় দাবিটি হলো- আমাদের মধ্যে যারা যেখানে উপযুক্ত তাদের হারানো সম্মান যখন আমরা ফেরত পাবো, সেই মর্যাদা ধরে যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের যে জায়গাগুলোতে পুলিশ কন্ট্রিবিউট করতে পারে, সেই জায়গাগুলোতে চুক্তিভিত্তিক পদায়ন করতে হবে।

মাহফুজুল হক আরও বলেন, পুলিশ ক্যাডারকে ব্যবহার করে স্বৈরাচার সরকার এই সমস্ত দলকানা, পক্ষপাতদুষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যাকারী কর্মকর্তাদের দিয়ে পুলিশ পরিচালনা করেছে। যে কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার জন্য দায়ী, যারা পরিকল্পনাকারী, যারা এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের চাকরিচ্যুত করতে হবে। তাদের চাকরিচ্যুত করে সেসব শূন্য পদে চুক্তিভিত্তিক পুলিশ সদর দফতরে চাকরিচ্যুতদের পদায়ন করতে হবে।