বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেছেন রানা ফ্লাওয়ার্স। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। রানা ফ্লাওয়ার্স গত ৫ আগস্ট ঢাকায় ইউনিসেফের প্রতিনিধি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মিসেস রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে প্রতিটি শিশুর অধিকার রক্ষায় ইউনিসেফের জোরালো সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি হিসেবে মিসেস ফ্লাওয়ার্স শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, পানি এবং শিশু অধিকার সুরক্ষাসহ শিশুদের জন্য আবশ্যক সামাজিক সেবাগুলোর মানোন্নয়নে ইউনিসেফের কর্ম তৎপরতায় কৌশলগত নেতৃত্ব প্রদান করছেন। তাছাড়া জলবায়ু সংকট, কিশোর বিচার ব্যবস্থা এবং তরুণদের ভালো কাজ পাওয়ার জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের মতো ক্ষেত্রগুলোতেও পরিবর্তন আনার জন্য তিনি দিকনির্দেশনা দেবেন।
তিনি বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য শিশু, তরুণ ও তাদের পরিবারগুলোর কথা সব সময় আমার মনে রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিশুদের কথাও আমি মনে রেখেছি।’
নতুন প্রতিনিধির নেতৃত্বে ইউনিসেফ, তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিবর্তনের জন্য করণীয়গুলো নির্ধারণ এবং সেগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এভাবে ইউনিসেফ তার চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি সমান তালে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতন জরুরি অবস্থায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা প্রদানের মতো কার্যক্রম নিষ্ঠার সঙ্গে চালিয়ে যাবে। প্রতিটি শিশুই গুরুত্বপূর্ণ, সেকারণে শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের অধিকার রক্ষার প্রতি ইউনিসেফ তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
মিসেস ফ্লাওয়ার্স অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, শিশু উন্নয়ন ও পলিসি অ্যাডভোকেসিতে ৩৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি চীন, কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া ও বেলিজে ইউনিসেফের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সবার জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের শিশু ও তরুণেরা যে আহ্বান রেখেছে, তাতে আমি অনুপ্রাণিত। আমরা তাদের কথা শুনছি’, বলেন ফ্লাওয়ার্স। তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আমি অঙ্গীরকার করছি যে, আমার টিম (দল) শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সহায়তায় সম্ভাব্য সবকিছু করবে— যাতে প্রতিটি শিশু বেঁচে থাকতে পারে এবং এমন একটি পরিবেশে তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়, যেখানে সহিংসতা থাকবে না, থাকবে সমৃদ্ধি ও সবার জন্য সমান সুযোগ।’