নর্থ সাউথের পুনর্গঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ অবৈধ ঘোষণা করা হাইকোর্টের আদেশ বহাল

জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততাসহ বেশকিছু অভিযোগে ২০২২ সালে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ভেঙে দিয়ে ১২ সদস্যের নতুন বোর্ড পুনর্গঠনকে অবৈধ ঘোষণা করা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন ফেরত (ননপ্রসিকিউশন) নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২২ সালের আগের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ থেকে মোট চারটি আবেদন ফিরিয়ে নেন। 
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী আখতার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুল রউফ।
পরে অ্যাডভোকেট কাজী আখতার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মোট চারটি আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়েসহ মোট চারটি আবেদন ননপ্রসিকিউশন করা হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের আদেশটি বহাল রইলো।
এর আগে ২০২২ সালে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ভেঙে দিয়ে ১২ সদস্যের নতুন বোর্ড পুনর্গঠন করে দেয় সরকার। পুরনো ট্রাস্টি বোর্ডের সাত জনকে নতুন বোর্ডে রাখা হয়নি। 

‘দুর্নীতি, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার’ অভিযোগে ১৬ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেয় সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের বিষয়ে আদেশ জারি করে।

পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডে বাদ পড়েন বিদায়ী বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ এবং সদস্য বেনজির আহমেদ, আজিজ আল কায়সার, এম এ কাশেম, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও নুরুল এইচ খান। এর মধ্যে বেনজির আহমেদ, এম এ কাশেম, রেহানা রহমান ও মোহাম্মদ শাহজাহান আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে কারাগারে আছেন। দুদকের ওই মামলায় ওই চারজনসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে আজিম উদ্দিনও রয়েছেন। বাকি সদস্যদের কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে তা উল্লেখ করা হয়নি। পরে বাদ পড়া সদস্যরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। 

ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ২০ আগস্ট জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততাসহ বেশকিছু অভিযোগে ২০২২ সালে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ভেঙে দিয়ে ১২ সদস্যের নতুন বোর্ড পুনর্গঠনকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এর ফলে ২০২২ সালের পূর্বের পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান আইনজীবীরা। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।