বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কিশোরী স্বর্ণা দাসকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাবির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে সীমান্তে বিএসএফের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা গত পরশু সীমান্তে ঘটে যাওয়া স্বর্ণা দাস হত্যার প্রতিবাদ করেন। এ ছাড়া সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক সব হত্যার বিচারের দাবি করেন। বক্তারা সাম্রাজ্যবাদী ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দিল্লি ও ঢাকার জনতাকে একত্রে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন। উপরন্তু ভারত নদীতে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশে যে মরণফাঁদ তৈরি করেছে, সে কথা মনে করিয়ে দেন।
তারা বলেন, ভারতীয় জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের কোনও বিরোধ নেই। তাদের বিরোধ ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফোরামের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে প্রতিবেশীর মতো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। ভারত সরকার যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে নাক না গলায়, তারা যেন তাদের দেশের আন্দোলন সামলায়। বাংলাদেশ আর ভারতীয় আধিপত্য মানবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফোরামের অন্যতম সংগঠক তুহিন খান বলেন, গত দেড় দশকের নিপীড়নের পর নতুন স্বপ্ন দেখানো দেশের স্বাধীনতা যাতে সর্বস্তরের মানুষের হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বর্ডারে যত খুন হয়েছে, তার চেয়ে বেশি খুন হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডারে। তিনি বক্তব্যে বুয়েটের নিহত শিক্ষর্থী আবরারের কথাও স্মরণ করেন।
তুহিন খান ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, তারা যেন খুনি হাসিনাকে তাদের ট্যাক্সের টাকায় না পোষে। এ ছাড়া তিনি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সমতাভিত্তিক টেকসই পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের দাবি উত্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সার্ক যাতে আবার সক্রিয় হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় বইপত্র, টিভি চ্যানেল ইত্যাদি সাংস্কৃতিক মাধ্যমের আধিপত্য থাকলেও, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলো ভারতে তেমন সুলভ নয়।
এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর হয়ে আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।