অভিনেত্রী হোমায়রা নুসরাত হিমুর আত্মহত্যার পেছনে কথিত প্রেমিক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ওরফে রুফির দায় ছিল। তাকে দায়ী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাাখিল করেছে পুলিশ।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন ৯ সেপ্টেম্বর এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যা আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) আদালত সূত্রে জানা গেছে।
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন হোমায়রা হিমু। ওইদিন রাতেই হিমুকে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে তার মামা নাহিদ আক্তার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রুফিকে আসামি করা হয়। পরদিন তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন অভিনেত্রী হোমায়রা হিমু। তার বিয়ে হলেও পরে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। একই ফ্ল্যাটে থাকতেন মেকআপম্যান ও আর্টিস্ট কবির আহম্মেদ মিহির। ২০১৪ সালে হিমুর খালাতো বোনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রুফির। কিছুদিনের মধ্যে পারিবারিক সমস্যার কারণে তাদের বিবাহবিচ্ছেদও হয়। পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্কের জেরে রুফির সঙ্গে হিমুর পরিচয়। হিমুর খালাতো বোনের সঙ্গে আসামি জিয়াউদ্দিন ওরফে রুফি বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও হিমু ও রুফির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। ঘটনার ছয় মাস আগে থেকে হিমুর বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। মাঝেমধ্যে হিমুর বাসায় রাত্রিযাপনও করতেন।
আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর নিহত হিমু মনোমালিন্যের জের ধরে আসামি রুফির মোবাইল ফোন নম্বর ও বিগো আইডি ব্লক করে দেন। এ নিয়েও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। রুফি পরদিন ২ নভেম্বর হিমুর বাসা আসে। মিহির বাসার মেইন দরজা খুলে দিলে রুফি হিমুর বাসায় ঢোকে। বাসা প্রবেশের কিছুক্ষণ পরই মিহিরের রুমে এসে রুফি চিৎকার করে বলেন, ‘হিমু আত্মহত্যা করেছে'। মোবাইল ফোন নম্বর ও বিগো আইডি ব্লক করে দেওয়া নিয়ে হিমুর সঙ্গে রুফি বাসায় আসার পর ঝগড়া হয়। রুফি ভিকটিম হিমুকে আত্মহত্যার প্ররোচণা দেয়। এরপর রাগে ও অভিমানে হিমু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঘটনার পর মিহিরের জিজ্ঞাসায় রুফি জানান, তিনি বাথরুমে ছিলেন এবং তখনই হিমু আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মিহির হিমুর রুমে গিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। এসময় রুমে থাকা কাচের দুটি গ্লাস ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান মিহির। হিমু আত্মহত্যার পর মিহির ও আসামি রুফি হিমুকে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় মরদেহ হাসপাতালে রেখে হিমুর দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় রুফি।
জানা যায়, হোমায়রা হিমুর জন্ম ১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায়। অভিনয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু ২০০৫ সালে। টিভি নাটকে অভিনয় শুরুর পর নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় হিমুর অভিনয় দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় হিমুর।