বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ইনফ্রাসট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাসহ ১২ জনের নামে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বল প্রয়োগ করে চাকরি থেকে পদত্যাগ করানো, প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগে এই মামলার আবেদন করা হয়।
রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে বাংলাদেশ ইনফ্রাসট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. ফরমানুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সংস্থার সাবেক পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এখলাছুর রহমান, কোম্পানি সচিব মনিরুল ইসলাম খান, পরিচালক আবু হেনা মো. রহমতুল মুমিন, খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাজ্জাদ হাসান, নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস, এম, আনিসুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড হেড অব ক্রেডিট শেখ আনোয়ার সাদাত, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সুজিত বসাক, প্রিন্সিপাল অফিসার আমির নাদিম ও খোন্দকার রিয়াজুল হক।
মামলার বাদী ফরমানুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীকে বল প্রয়োগ করে সালমান এফ রহমানের তিস্তা সোলার প্রকল্পে ১৪০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ঋণ প্রস্তাব দিতে বলেন। কোম্পানির পলিসি অনুযায়ী, তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রউফ বাদীর ওপর ক্ষেপে যান। এরপর সেই প্রকল্পের অনুকূলে ২০০ কোটি টাকা জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ করার কথা বলে সেই টাকা আগাম ঋণ হিসেবে চাইলে বাদী পর্যাপ্ত ফান্ড নেই বলে জানান।
এতে আবারও বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হন সাবেক এই গভর্নর। পর্যায়ক্রমে অবৈধ সুবিধা চাইতে থাকলে তাতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা বাদীকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এতে বাদীর অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি, সামজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।