বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর পল্টন এলাকায় বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্যসচিব ও উপদেষ্টা আবদুল কামাল নাসের চৌধুরীর ৪ দিনের ও যু্বদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় সাবেক ক্রীড়াসচিব মেজবাহ উদ্দীন আহমেদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২ অক্টোবর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত এই আদেশ দেন। এদিন তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
এরপর পল্টন থানার পৃথক দুই হত্যা মামলায় তাদের দশ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
অপরদিকে, তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কামাল নাসেরের চার দিন ও মেজবাহ উদ্দীনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এরআগে মঙ্গলবার দিনগত রাতে রাজধানী থেকে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা এক দফা দাবি আন্দোলন কর্মসূচিকে ঘিরে সারা দেশের নেতাকর্মীরা যখন জড়ো হতে থাকেন তখন আসামিরা বিএনপির ডাকা সমাবেশকে বানচালের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা ৫০০/৬০০ জন আসামি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। আসামিরা বিএনপি অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন। তারা বিএনপি কার্যালয়ে থাকা নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ ও গুলি করেন। এসময় মকবুল নামে এক বিএনপিকর্মী আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাসমাবেশ ডাকে। এই মহাসমাবেশকে পণ্ড করার জন্য একই দিনে আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ ডাকে। বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা ও গুম করার উদ্দেশ্যে পুলিশের সহায়তায় বিএনপির ঢাকার মহাসমাবেশে হামলা চালানো হয়। এসময় যু্বদল নেতা শামীম নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।