শেখ হাসিনা, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রিয়’র মায়ের অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কাছে প্রিয়’র মা সামসি আরা জামান এ অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে সামসি আরা জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমি প্রিয়’র মা। আমি রংপুর থেকে এসেছি। আমি এর আগে নিউ মার্কেট থানায় মামলা করেছিলাম। আমি যেহেতু রংপুরে থাকি (মামলার)  কোনও খোঁজখবর পাচ্ছিলাম না। শহীদ সৈকতের বোনের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ। তার কাছে জানলাম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সে মামলা করেছে। সেজন্য আমি আরেকদিন এসেছিলাম। সব খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, সব মামলা এখানেই আসবে। এখান থেকে বিচারকার্য পরিচালনা করা হবে। এ কারণে আমি এই মামলা এখানে দায়ের করতে এসেছি। আমি ফিরে গিয়ে যাদেরকে চিনি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবো এখানে মামলা করতে।

কতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আট জনের বিরুদ্ধে। যারা ওপর থেকে হুকুম দিয়েছে তাদের নাম আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম আছে। সেসময় থানায় যারা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা তাদেরকে তো অবশ্যই দায়ী করবো। তাদের হুকুম ছাড়া তো আমার ছেলেকে গুলি করা হয়নি। আমার ছেলেকে ১৯ জুলাই বিকাল ৫টা থেকে ৫টা ১০ মিনিটের মধ্যে সায়েন্সল্যাব মোড় ল্যাবএইড এর পেছনে, সেখানে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে পেছন থেকে গুলিটা করা হয়েছে।  আমাদের কাছে ভিডিও আছে। যারা মেরেছে তারা হলো পুলিশ ও  এপিবিএনের ৩০-৪০ জনের একটি দল। মামলা করার পরে আমি ফুটেজটি পেয়েছি।

প্রিয়’র মা বলেন, আমার ছেলে অনলাইন পত্রিকা দ্য রিপোর্টে সাংবাদিকতা করতো এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিনেমা সিনেমাটোগ্রাফি ও ফটোগ্রাফিতে পড়াশোনা করছিল।