আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক এক পরিবারের ১৩০ একর মৎস্য প্রকল্প ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে জমি দখলকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হত্যা চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই পরিবার।
শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মৃত নূরুল আমিনের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে নূরুল আমিনের ছেলে বদরুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার মানিকখালি এলাকায় আমার বাবার (মৃত নূরুল আমিন) নামে থাকা ১৩০ একর জমি দখল করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ।
পদ পদবির প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। তার অত্যাচারে গ্রাম ছেড়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর লালমাটিয়া এলাকায় এসে ভাড়া বাসায় থাকলে সেখানেও তিনি ক্রমাগত অত্যাচার করতে থাকেন।
পরে বাধ্য হয়ে বাবা দেশ ছেড়ে ২০১০ সালে বিদেশ চলে যান। ২০১১ সালে নূর মোহাম্মদ চাকরি থেকে অবসর নিলে বাবা দেশে ফিরে আসেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ জানিয়ে ন্যায়বিচার পাননি বলেও জানান বদরুল আমিন।
তিনি বলেন, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে জমি দখলের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে এরপর আর কোনও অগ্রগতি হয়নি।
বদরুল আমিন জানান, ২০১৬ সালে আমার বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে ওই জায়গার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে সহকারী জজ আদালত। সেই আদেশ অমান্য করে ওই জমি থেকে শত কোটি টাকার বালি ও গাছ বিক্রি করেন সাবেক এই আইজিপি। ২০১৮ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের পরিবারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
এ সময় তিনি আইনানুগভাবে পারিবারিক সম্পত্তি ফিরে পেতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ন্যায়বিচার পেতে প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানান বদরুল আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্তিত ছিলেন মৃত নূরুল আমিনের স্ত্রী হাছনা আমিন এবং ছেলে রুহুল আমিন ও সিরাজুল আমিন।