‘ইলেক্ট্রনিক ডাটা ট্রাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার নির্ণয় কর্মসূচি’ নামে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আশরাফুন্নেসার বিরুদ্ধে। টাকার বিষয় জানতে চাওয়ায় পেছনের তারিখ দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও জানান প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অভিযোগ করেন।
প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে বাস্তবায়নাধীন ওই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২১ মেয়াদে সারা দেশে জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসা দিতে কাজ করে। পরে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ মেয়াদের দুইবার সংশোধন ও মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ২০২৪-২৫ মেয়াদের নো-কস্ট এক্সটেনশনের মাধ্যমে পুনরায় মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৬০১ টি স্ক্রিনিং কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং ৫০ লাখের বেশি নারীকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্পের আওতায় ৬৯ জন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আউটসোর্সের প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
তারা বলেন, প্রকল্পের জনবল নিয়োগকালে পরিচালক অধ্যাপক আশরাফুন্নেসা সবাইকে জানান, প্রকল্পের জনবলের জন্য সরকার থেকে বেতন ছাড়া অন্য কোনও ভাতা বা সম্মানী দেওয়া হয় না। তবে প্রকল্প শেষে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করে সব জনবলকে আত্মীকরণ করা হবে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট গণ-ভ্যুত্থানের পর প্রকল্প পরিচালক জানান, বর্তমান প্রশাসন তার অনুকূলে না থাকায় তিনি স্থায়ীকরণের বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না। তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিএসএমএমইউ’র প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কাগজপত্র যোগাড় করতে গিয়ে দেখতে পান, শুরু থেকেই মূল বেতন ছাড়াও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য ক্যাম্পে সম্মানী বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষক, কো-অর্ডিনেটর, ফ্যাসিলিটেটর ও অংশগ্রহণকারীর জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তখন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা শুরু করেন। সীমিত কিছু নথি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় ৭ কোটির বেশি টাকা প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে সরকার থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। হয়ত আরও তথ্য পাওয়া গেলে ন্যায্য প্রাপ্যর পরিমাণ আরও বাড়বে।
প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দিতে বলা হলে প্রকল্প পরিচালক টাকা দিতে অস্বীকার করেন। বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে দিয়ে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। পরে বিএসএমএমইউর বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমানকে বিষয়টি জানালে তিনি আশ্বাস দিয়েও কোনও উদ্যোগ নেননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, সমস্যা সমাধান না করে উল্টো চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন– ইঞ্জিনিয়ার তাওহিদ উল হাসান, ডা. কাইয়ুমা খানম, ডা. সাদিয়া মাহবুবা প্রমুখ।