সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির দাবি মানবাধিকার কর্মীদের

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সোমবার (৩ ডিসেম্বর) পূর্ব লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার কর্মীরা এই দাবি জানান।

‘ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরাম’ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। বক্তারা শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেফতার এবং বাংলাদেশে মানবাধিকারের অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সিনিয়র গবেষক এবং এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রভাষক আব্বাস ফয়েজ মূল বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহরিয়ার কবিরের মামলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আব্বাস ফয়েজ বলেন, ইতোপূর্বে সমালোচনামূলক মতামত প্রকাশের জন্য ২০০১ সালে আইনি নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি তখন তাকে গ্রফতার করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ২৩ বছর আগে আটক হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেই সময় শাহরিয়ার কবিরকে ‘বিবেকের বন্দি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে আবারও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে তার সমালোচনামূলক লেখার কারণে তাকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আব্বাস ফয়েজ বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং বাংলাদেশের সংবিধান যেকোনও অত্যাচার বা নিপীড়নের ভয় ছাড়াই ব্যক্তিদের মতামত প্রকাশের অধিকারকে রক্ষা করে। অথচ সেই নীতি এখন লঙ্ঘিত হচ্ছে।

আব্বাস ফয়েজ সরকারের কাছে চার দফা সুপারিশ পেশ করেন— শাহরিয়ার কবিরকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান, কোর্টে  হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, বানোয়াট অভিযোগ প্রত্যাহার এবং সব অভিযোগ এক করে একটি ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার কথা বলেন।

সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্টের পুষ্পিতা গুপ্তা, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুক্তিযোদ্ধা এম এ হাদি, কূটনৈতিক সংবাদদাতা ডানকান বার্টলেট, ব্যারিস্টার তানিয়া আমির এবং রেডব্রিজের সাবেক মেয়র রায় এমমেট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। - সংবাদ বিজ্ঞপ্তি