ঢাকার কেরানীগঞ্জ চুনকুটিয়া জিনজিরা শাখার রূপালী ব্যাংকে ডাকাতি চেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দুই কিশোর আরাফাত (১৬) ও সিফাত (১৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক হিরন কুমার বিশ্বাস তাদের আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদের আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একই মামলায় একই আদালত সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লিয়ন মোল্লা ওরফে নিরবের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিরন কুমার বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার লিয়ন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির মোল্লার ছেলে। দুই কিশোরের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী খালপাড় এলাকায়। লিয়ন পেশায় গাড়িচালক। বাকি দুজনের একজন একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, আরেকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
গ্রেফতার তিনজনই কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা। ওই ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার তারেক মামুন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে আসামি লিয়ন রুপালী ব্যাংকের জিনজিরা শাখায় প্রবেশ করে নিরাপত্তারক্ষীকে চুপচাপ পিছনে হাত দিয়া হাঁটু গেড়ে বসে পড়তে বলে। এসময় কিশোর মো. আরাফাত ও মো. সিফাত ব্যাংকে প্রবেশ করে। ব্যাংকে থাকা অন্যান্য গ্রাহক ও স্টাফদেরকে পিস্তল দেখিয়ে বলে, "কেউ চিল্লাচিল্লি করবি না, সবাই আমাদের সামনে এসে পিছনে হাত রেখে হাঁটুগেড়ে বসে পড়, মাথা নিচের দিকে করে রাখ, আমরা কারো ক্ষতি চাই না, আমাদের কাজে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবি না, আমাদের কাজ শেষ করে চলে যাবো, কেউ চালাকি করলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলবো'। তখন ব্যাংকের অন্যান্য স্টাফ ও গ্রাহকরা জীবনের ভয়ে আসামিদের সামনে এসে পিছনে হাত দিয়া হাঁটুগেড়ে বসে পড়েন। এরপর ওই ব্যাংকের অফিসার মোহাব্বত হোসেন কৌশলে পিছনের গার্ড রুমে ঢুকে পড়ে ব্যাংকের ম্যানেজার ও বাসার কেয়ারটেকারকে জানান।
আসামিরা প্রথমে ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে ফেলে। স্টিলের পাইপ দ্বারা ব্যাংকের সার্ভারের হাব ভেঙে ফেলে। ব্যাংকের সকলের মোবাইল নিয়ে নেয় এবং ব্যাংকের ক্যাশে থাকা ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে আসামিরা ভল্টের চাবি চায়। ব্যাংক ম্যানেজারের অনুপস্থিতিতে চাবি না পাওয়ায় আসামিরা ১৮ লাখ টাকাসহ পালিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের আটক করে।