সাবেক এমপি শওকত হাচানুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে তার স্ত্রী রওনকের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলেছে দুদক। তার বিরুদ্ধেও ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে দুদকের কাছে।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন (প্রতিরোধ) জানান, শওকত হাচানুর রহমান রিমন নিজের নামে ৩৫ কোটি ৯৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬৮৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে তথ্য রয়েছে দুদকের কাছে। তার নামে দায়-দেনা রয়েছে ১৫ কোটি ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৭ টাকার। এই দায়-দেনা বাদেই শওকত হাচানুর রহমান রিমনের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি ৭৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯০ টাকার। ১৯৯৪-১৯৯৫ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষে তার মোট পারিবারিক ব্যয় ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫ টাকাসহ অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩৪ টাকা। এই ৩৭ কোটি ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩৪ টাকার বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় ১ কোটি ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭০ টাকার। এ ক্ষেত্রে তিনি ৩৫ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর শওকত হাচানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, হাচানুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক এই এমপির নামে বরিশালের আগরপুর রোড, রূপাতলী, জাগুয়া, দক্ষিণ আলেকান্দায়, ঢাকার নলটোনা, বরগুনার পাথরঘাটায় মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৩ টাকার অ-কৃষি জমি রয়েছে। এছাড়া বরগুনার কাঠালতলী, মাদারতলী, রায়হানপুর, গহরপুর, চরলাঠিমারা মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫৮ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের কৃষি জমি আছে। তার নিজ নামে ব্যবসার পুঁজি রয়েছে ১৫ কোটি এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ টাকা। ৪৬ লাখ টাকার অন্যান্য বিনিয়োগ রয়েছে।