ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল নিহত মুগ্ধ’র পরিবারের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ নিহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) মুগ্ধর দুই ভাই চিফ প্রসিকিউটর অফিসে এ অভিযোগ দাখিল করেন।

পরে মুগ্ধ’র বড় ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে দেখা করেছি। নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের করেছি। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণাদিসহ যে বা যারা প্রকৃত অপরাধী ও যারা তাদের এই অপরাধ করতে সাহায্য করেছে তাদের মামলায় অপরাধী হিসেবে নিয়ে আসবেন। আমরা আশাবাদী যে, সরকার এবং ট্রাইব্যুনাল আমাদের ন্যায়বিচারের আশা পূরণে সক্ষম হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সাক্ষ্য-প্রমাণ। এটি মূলত প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও আমরা নিজেরাই বেশ কিছু প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছি, কারণ বিচার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হোক বা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াতে সময় লাগুক তা আমরা চাইনি। আমরা চাই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দ্রুততার সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করবেন। এখানে প্রমাণ সংগ্রহ করে আমরা তাদের কাজ অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছি।’

দীপ্ত বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা বারবার লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য বলতে থাকেন, কারণ পুলিশ এসে লাশ সরিয়ে ফেলার একটি সম্ভাবনা ছিল। লাশ দাফন করার জন্য থানায় অনাপত্তিপত্র নিতে গেলে তারা অনুমতি নেই বলে জানায়।’

মুগ্ধর জমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে তথ্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছি তার ভিত্তিতে বলতে পারি পুলিশের চালানো গুলিতেই সেদিন মুগ্ধ'র জীবন চলে গিয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সত্যতা প্রমাণ করা কঠিন কোনও বিষয় নয়।’

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে উত্তরার আজমপুরে শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষের সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনলাসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী ছিলেন।