৪৭তম বিসিএস থেকে চিকিৎসকদের বয়সসীমা আগের মতো দুই বছর বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা এবং অবিলম্বে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করার দাবি নিয়ে সচিবালয় গেটে অবস্থান নেন চিকিৎসকরা। দাবি আদায় না হলে সারাদেশে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর সচিবালয় এলাকায় চিকিৎসক ও মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সংগঠন ইউনাইটেড মেডিক্যাল অর্গানাইজেশনস অব বাংলাদেশের (ইউমব) ব্যানারে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন বক্তারা।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের প্রজ্ঞাপনে আবেদনকারীর বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য বিসিএস আবেদনকারীর স্নাতক শেষ করতে যেখানে ন্যূনতম চার বছর সময় প্রয়োজন হয়, সেখানে একজন চিকিৎসকের এমবিবিএস/বিডিএস স্নাতক ও ইন্টার্নশিপ শেষ করতে ন্যূনতম ৭৮ মাস বা সাড়ে ছয় বছর লাগে। তাই আগের সব বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনকারীদের বয়সসীমা ৩০ বছর ছিল, সেখানে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩২ বছর ছিল। কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে সবার ক্ষেত্রে বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হলেও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে কোনও বয়সসীমা বৃদ্ধি হয়নি। ফলে চিকিৎসকরা এই ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
এ সময় ইউমব’র চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. মোবারক হোসাইন বলেন, আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। আমরা এতদিন চেয়েছি টেবিল ওয়ার্কের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে। কিন্তু সবাই আমাদের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করলেও অদৃশ্য কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমরা চাই না আবারও শাহবাগ অবরোধ হোক, আমরা চাই না চিকিৎসকরা রাজপথে নেমে আসুক। চিকিৎসকরা রাজপথে এলে কর্মবিরতি দিয়ে আসবে। তখন রোগীদের দুর্ভোগ হলেও আমাদের কিছু করার থাকবে না। আমরা বিষয়টি টেবিলে সমাধান করতে চেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সেটি পারিনি। এখন আমরা কর্মবিরতির চিন্তা করছি। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারাও সারাদেশের চিকিৎসা সেবা ‘শাটডাউন’ করে আমাদের সঙ্গে রাজপথে নেমে আসবেন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল কমিউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. রায়হান আসার বলেন, আমরা জানি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শাটডাউন দিলে রোগীরা কষ্ট পায়। আমরা তাই কর্মসূচিতে যেতে চাই না। ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেকেই আমাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বয়স বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সেটি দীর্ঘ এক মাস ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে।
ভয়েস অব ডক্টরসের আহ্বায়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ৪৭তম বিসিএসের আবেদন এরমধ্যে শুরু হয়েছে। আর মাত্র ১২ দিন আছে। কিন্তু এখনও চিকিৎসকদের সমস্যাটি সমাধান হচ্ছে না। বিসিএসে সবার বয়স বৃদ্ধি করা হলেও চিকিৎসকদের বৃদ্ধি করা হয়নি। এক আমাদের সঙ্গে এটা বড় ধরনের বৈষম্য। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চিকিৎসক সমাজ অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা তো কোনও বৈষম্য টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন করিনি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. মাহফুজুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মঈন উদ্দিন চিশতি প্রমুখ।