আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড শুনানি চলাকালে তিনি বলেন, ক্ষমতায় (মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য) থাকাকালীন কারও সঙ্গে অন্যায় করিনি। বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশীতা ইসলামের আদালতে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিকাল পৌনে পাঁচটায় তাকে আদালতে আনেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর বিকাল পাঁচটার দিকে বিচারক আদালতে প্রবেশ করলে মোস্তফা জালালের আইনজীবীরা অসুস্থতার কথা জানান। বিচারকের কাছে চেয়ার প্রার্থনা করে সেখানে বসার অনুমতি চান। বিচারক অনুমতি দেন। এরপর সন্ধ্যার সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত শুনানি চলে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সহযোগী ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা তাদের পরামর্শে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালিয়েছেন। নিউ মার্কেট এলাকায় ১৯ জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত গুলিবর্ষণে সেদিন ব্যবসায়ী ওয়াদুদ মারা যান।
এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদারসহ কয়েকজন শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, তিনি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি। তিনি কারও কোনও ক্ষতি করেননি। মামলায় হয়তো ওনার নাম আছে, কিন্তু তিনি কাউকে গুলি করেছেন, এটা কেউ বলতে পারবে না।
সবার কাছে উনি একজন প্রিয় মানুষ। রাষ্ট্রপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গেও ওনার ভালো সম্পর্ক। সকলের কাছেই উনি একজন গ্রহণযোগ্য মানুষ। ঘটনার ১ মাস ২ দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় এ আসামির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। ওনাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। তিনি সরকারি কোনও দায়িত্বে ছিলেন না। তাহলে তিনি কীভাবে হুকুমের আসামি হন। তিনি লালবাগ চকবাজার এলাকায় এমপি। এ ঘটনা সেখানকারও না। তিনি ডাক্তার ও বয়স্ক মানুষ। বর্তমানে তিনি অনেক অসুস্থ। তার সময় ডাক্তারি ব্যবস্থায় অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা ওনার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করছি।
এরপর প্রসিকিউটর ফারুকী বলেন, ওনারা বেশি বললে আমাদেরও বেশি বলতে হয়। উনি স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ করতেন। উনি ভিন্নমতের কোনও ডাক্তারকে নির্বাচনের সুযোগ দেননি। ঢাকার আশেপাশে কোনও ভালো ডাক্তার রাখেননি। ভালো ভালো ডাক্তারদের দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়েছে অযোগ্য ডাক্তারদের ঢাকায় রেখেছেন। এ এলাকা ছিল হাজী সেলিমের এলাকা। তিনি এখানে নির্বাচন করলেও পুরো ঢাকা শহরে ওনার প্রভাব রয়েছে।
এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, মাননীয় আদালত আমরা আপনার কাছে ন্যায়বিচার চাই। ওনার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। রিমান্ড দেওয়া হলে উনি সহ্য করতে পারবেন না। এছাড়া ওনি অনেক জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত।
এরপর মোস্তফা জালালকে লক্ষ্য করে বিচারক বলেন, আপনি কিছু বলতে চান? এরপর তিনি চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে বলেন, আমার নামে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেটা সত্য না। বিএনপির পক্ষ থেকে মাজেদ স্যারসহ অনেকে নির্বাচন করেছেন। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন বিএনপি-জামায়াতের কারও সঙ্গে অন্যায় করিনি। তাদের সবার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। সেজন্য ডাক্তাররা আমাকে মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রথমে সেক্রেটারি, এরপর সভাপতি করেন। বিএনপি জামায়াতের কেউ আমার কাছে কোনও কিছু চেয়ে পায়নি, এমন হয়নি। আমার বিরুদ্ধে কারও কোনও অভিযোগ নেই। আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমার বড় ভাই যুদ্ধে হারিয়ে গেছেন। দেশের মেডিক্যাল অঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা অনেক কাজ করেছি। আমার একটাই অপরাধ, আমি শেখ হাসিনার রাজনীতি করেছি। আমার নির্বাচনি এলাকা চকবাজার, লালবাগ, বংশাল ও কোতোয়ালী এলাকা। এ এলাকার কোনও মানুষের আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। নিউমার্কেট এলাকার এসব হত্যার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সরকারের কোনও সিদ্ধান্তে আমি ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এরপর বিচারক ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।