দীর্ঘদিন ধরে মাইলেজের (অতিরিক্ত ডিউটি সুবিধা) ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক দেওয়া এবং নিয়োগ পত্রের দুই শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এনিয়ে কয়েক দফা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তারা। সমস্যা সমাধানে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল ইউনিয়নের নেতারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান না আসায় আগের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রেলওয়ে শ্রমিকরা।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মো. মজিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানান।
এর আগেও এই দাবিতে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টেশনে রেল পথ অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল করেন রেল কর্মীরা।
মজিবুর রহমান বলেন, আমরা দাবি পূরণে আমরা সময় দিয়ে আসছিলাম কিন্তু আমাদের কথা গ্রাহ্য করছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা বাধ্য হচ্ছি রেল চলাচল বন্ধের জন্য।
তিনি বলেন, এই প্রথমবারের মত আমরা দাবি করছি তা না। ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল এই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করি। তখন সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। এরপর বারবার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিলেও সংকটের কোনও সমাধান এখন পর্যন্ত হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকেও তিনবার সময় দেওয়া হয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত কোনও সমাধান দেয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানায়, রেলের রানিং স্টাফদের মধ্যে রয়েছেন লোকো-মাস্টার (এলএম), সহকারী লোকো-মাস্টার (এএলএম) এবং সাব-লোকোমাস্টার (এসএলএম)। তাদের ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস হলেও তাদের গড়ে ১৫-১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সেজন্য তাদের বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো, যাকে রেলওয়ের ভাষায় বলা হয় মাইলেজ। মাইলেজ রানিং স্টাফদের বেতনেরই অংশ। এই মাইলেজ অনুযায়ী তারা পেনশনও পেতেন। কর্মীদের দাবি ১৬০ বছর ধরে রেলে মাইলেজ সুবিধা চলে আসছিলো।
তবে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পেনশনে মাইলেজ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এতে বলা হয়, রেলওয়ের রানিং স্টাফরা যতটুকু কাজ করবেন ততটুকুই মাইলেজ ভাতা এবং পেনশনের সঙ্গে মাইলেজ সুবিধা থাকবে না। এর প্রতিবাদে ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল সারাদেশে ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন ট্রেনচালকরা। তখন সারাদেশে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৎকালীন রেলমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করে। পরে ২০২৩ সালের ১১ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালকের পক্ষে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) রানিং স্টাফরা পেনশনের সঙ্গে মাইলেজ ভাতা পাবেন এমন আদেশ জারি করেন। একই মাসের ১৮ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস প্লাস কর্তৃপক্ষ এ চিঠির আপত্তি জানিয়ে উল্টো চিঠি দেয়। এতে ফের মাইলেজ পেনশন বন্ধ হয়ে যায় রেলওয়ে রানিং স্টাফদের।