বহুজাতিক কোম্পানি নোভারটিসের শেয়ার কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ইকতান্দার হোসাইন হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, নোভারটিস বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত রিট মামলার বিষয়ে দুদকের আইনজীবীর তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণের আশ্বাসে প্রথমে এক মাসের জন্য মামলাটির কার্যক্রম মুলতবি করেছিলেন বিচারপতি এ, কে, এম, আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। তবে, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি পুনরায় তালিকাভুক্ত করা হয়। আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি কে, এম, ইমরুল কায়েশের নেতৃত্বাধীন অন্য আরেকটি হাইকোর্ট বেঞ্চে মোশন শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে।
আদালতে রেডিয়েন্টের পক্ষে শুনানিকালে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট বি এম ইলিয়াস কচি, অ্যাডভোকেট সাকলাইন, ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হায়দারসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক।
এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ইকতান্দার হোসাইন হাওলাদার বলেন, ‘ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, রেডিয়েন্টের মালিক নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বিগত সরকারের একজন দোসর এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি ও ডামি এমপি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বর্তমানে সালমান এফ রহমানের অবর্তমানে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন এবং অতীতে এই একই কায়দায় শেয়ার হস্তান্তরের নামে অনেক টাকা এই চক্রটি পাচার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বহুজাতিক কোম্পানি নোভারটিসের শেয়ার কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেছিলাম এবং দুদকের আইনজীবীর তদন্তের আশ্বাসে আদালত এক মাসের জন্য মামলাটি মূলতবি করেন। আদালতে এই বিষয়টিকে প্রতিহত করতে অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের সিনিয়র নেতারা যেভাবে উপস্থিত হয়েছেন, এতে আমি বিস্মিত ও বিব্রত হয়েছি।’
প্রসঙ্গত, এর আগে নোভারটিসের ২৩০ কোটি টাকার শেয়ার হস্তান্তর প্রতিরোধে গত ৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোভারটিস বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৩০ কোটি টাকার প্রায় ১০ লাখ শেয়ার রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ প্রেরণ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, এই শেয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বৈদেশিক বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। নোভারটিস বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ শেয়ার (৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬ শেয়ার) রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে বিক্রির প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে রিট পিটিশন দায়ের হলে, শুনানির সময় দুদকের আইনজীবী আদালতকে জানান— তারা এক মাসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবেন। এতে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে দুদকের রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত এক মাসের জন্য মামলাটি মুলতবি রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে রেডিয়েন্টের আইনজীবীরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রেডিয়েন্ট ফার্মা একটি দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব ধরনের নিয়ন্ত্রক নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক নোভারটিসের শেয়ার অধিগ্রহণ একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি বাণিজ্যিক লেনদেন, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৮ সালের ৬ মে এর এফইআইডি সার্কুলার নম্বর-১ এর বিধি ৩(ক)(i) ও (iii) এর আলোকের বিক্রিত শেয়ারের যথাযথ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণের অপেক্ষায় আছে। এখানে নোভারটিস বা রেডিয়েন্ট ফার্মা কারও একার পক্ষে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক স্বীকৃত মার্চেন্ট ব্যাংক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট শেয়ারের মূল্য নিরীক্ষা করছে এবং সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী এই লেনদেন সম্পন্ন করা হবে, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনসম্মত। এখানে রিট পিটিশনারের একজন আইনজীবী হয়ে বাণিজ্যিক ব্যাক্তিগত লেনদেন বিষয়ে জনস্বার্থে রিট করার আইনত কোনও সুযোগ নেই। তাই আমরা মনে করি, এখানে রিট পিটিশনারের কোনও নিজস্ব স্বার্থ আছে। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই এই বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে, সেখানে এই মুহূর্তে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলে আমরা (আইনজীবীরা) মনে করি।