বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের রঙে বইমেলাও রঙিন

পহেলা ফাগুন ও ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া লেগেছে অমর একুশে বইমেলায়ও। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পাঠক-ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ভালোবাসা দিবসে এ যেন বইয়ের সাথে পাঠকের প্রেমময় সাক্ষাৎ। তাইতো ফাগুনের ছোঁয়া মাখিয়ে হলুদ, বাসন্তী রঙের শাড়ি বা পাঞ্জাবি পড়ে মেলায় এসেছেন পাঠক ও দর্শনার্থীরা। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের রঙে আজ বইমেলাও রঙিন হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে  বইমেলা প্রাঙ্গণ, খাবারের দোকানগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সাধারণের চেয়ে বেশি উপস্থিতি দেখা গেছে মেলার বিভিন্ন অংশে। খাবারের দোকানগুলোতেও অন্যান্য ছুটির দিনের চাইতে জনসমাগম একটু বেশি।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেনসরেজমিনে দেখা যায়, মেলার প্রবেশমুখ থেকে মেলা প্রাঙ্গনজুড়ে বইপ্রেমীদের ভিড়। স্টলগুলোর সামনে লেখক-পাঠকের সরব উপস্থিতি। বিশেষ করে জনপ্রিয় প্যাভিলিয়নগুলোতে ছিল পাঠকদের বাড়তি চাপ।

বাংলাপ্রকাশের দুজানা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিক্রি ভালো হচ্ছে। বসন্ত উপলক্ষে আজ পাঠক-ক্রেতার চাপ অনেক বেশি। বিক্রিও অন্যান্য দিনের চেয়ে ভালো। ইসলামিক বইয়ের মধ্যে নবীজির জীবনীসহ অন্যান্য ইতিহাসভিত্তিক বইগুলো ভালো বিক্রি হয়েছে।

ছবি সাজ্জাদ হোসেন (2)আদর্শ প্রকাশনীর ফারদিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ বিক্রি বেশ ভালো। মেলা আজ খুব ভালো লাগছে। ক্রেতারা সেজেগুজে আসছেন। বই কেনার পাশাপাশি ছবি তুলছেন। আজ বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। শুক্রবারের ভিড়ের সাথে বসন্তের নতুন রূপ পাঠক-ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।

শব্দশৈলী প্রকাশনীর সোহাগ রানা বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ। আমাদের কয়েকটি নতুন আসা বই ভালো বিক্রি হয়েছে।

ছবি সাজ্জাদ হোসেন (1)গাজীপুর থেকে বন্ধুদের সাথে এসেছেন তারেক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভালোবাসা দিবসে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। পথিমধ্যে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেই এখানে আসার। এসে খুব ভালো লাগছে তবে অনেক ভিড়।

মেলায় বসন্তের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, আমি ভাবতে পারিনি এত ভিড় হবে। এখন দেখছি শাড়ি, পাঞ্জাবি পরে দর্শনার্থীরা মেলায় আসছেন। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের রঙে আজ বইমেলাও রঙিন হয়েছে।

মেলায় ঘুরতে এসেছেন ইশরাত নীলা। তিনি বলেন, বইমেলায় ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া স্পষ্ট। তবে আমি এসেছি মেলা দেখতে ও বই কিনতে। জুলাই নিয়ে একটা কবিতার বই কিনেছি।

ছবি সাজ্জাদ হোসেন (7)লেখক কিঙ্কর আহসান বলেন, এবার আমার দুটো বই এসেছে। একটা ভ্রমণকাহিনীর, আরেকটি কবিতার। ভ্রমণকাহিনী এবং কবিতার বই আমি প্রথমবারের মতো লিখেছি। এর আগে আমার কয়েকটি উপন্যাস বেরিয়েছে। গল্পের বইও আছে। তিনি আরও বলেন, আজকে বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখে ভালোই লাগছে। ২০-২১ তারিখের দিকে গিয়ে মেলা আরও জমে উঠবে। পাঠকদের যে একটা জমজমাট ব্যাপার দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।

মূলমঞ্চ

বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আহমদ ছফার আগ্রহী যুবকেরা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তাহমিদাল জামি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নূরুল আনোয়ার ও সাজ্জাদ শরিফ এবং সভাপতিত্ব করেন সলিমুল্লাহ খান।

প্রাবন্ধিক বলেন, আহমদ ছফা ছিলেন একই সঙ্গে চিন্তা ও কর্মের কর্তা। তার আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল জ্ঞানগত, রাজনৈতিক ও বহুবিধ। ছফা রাজনৈতিক আকাঙ্খা বা রাজনৈতিক বাসনার লগ্নি ও বিলগ্নিকে ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহের নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। সমাজের এক বা একাধিক শ্রেণি কীভাবে বিশেষ রাজনৈতিক সংগঠনে নিজের বাসনাকে স্থাপন বা লগ্নি করে, সে বিষয়টি ছফার চিন্তায় বারবার এসেছে। আবেগকে ছফা সমাজ রূপান্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে শনাক্ত করেছেন। এই আবেগ মানবিক ও সংস্কারকামী এবং একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মেজাজের।

আলোচকরা বলেন, আহমদ ছফার জীবন ও সাহিত্যকে আলাদা করে দেখার উপায় নেই। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে তরুণদের মধ্যে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়েছিল, তা তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। লেখালেখির মধ্য দিয়ে তিনি সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। দেশের কোথাও আঘাত এলে অত্যন্ত সংবেদনশীল মনের অধিকারী আহমদ ছফা নিজের অন্তরে সে আঘাত অনুভব করতেন এবং প্রতিক্রিয়া দেখাতেন।

সভাপতির বক্তব্যে সলিমুল্লাহ খান বলেন, আহমদ ছফা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি ছিলেন সৎ, সাহসী একজন মানুষ। তিনি নিজে যেমন লেখালেখি করেছেন, তেমনি অনেক লেখকও তৈরি করেছেন।

শনিবার মেলার সূচি

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বইমেলার ১৫তম দিন। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১টার পরিবর্তে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই দিন মেলায় থাকবে না পূর্বঘোষিত শিশুপ্রহর।

বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জীবন ও কর্ম : সৈয়দ আলী আহসান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি মুহম্মদ আবদুল বাতেন।

নতুন বই

এদিন বইমেলায় ৯৫টি কবিতার বই এবং ৩৪টি উপন্যাসসহ সর্বমোট ২৫০টি নতুন বই এসেছে।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন