বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার দফতরে অভিযোগ

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে যাওয়া হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুদকের দায়ের করা চার মামলার আসামিকে সব নিয়মনীতি ভঙ্গ করে এমন চেষ্টাকে নজিরবিহীন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে যেন নিয়োগ না দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ওই অভিযোগে তিন জন প্রকৌশলীরও নাম দেওয়া হয়েছে, যারা ওই পদের জন্য যোগ্য।

বুধবার (৫ মার্চ) মুখ্য সচিব বরাবরএই অভিযোগ অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে জনৈক্য ব্যক্তি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে অভিযোগ দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুদকের যে চার মামলা সেখানে ছয়টি প্রজেক্টের কথা রয়েছে। সেই প্রজেক্টগুলোর কোনোটারই পিডি আমি ছিলাম না। যেহেতু মামলা হয়েছে এখন তার তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে যা হবে সেটাই মেনে নেবো।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি চক্র এগুলো করছে।’

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সিএ-১ শাখা থেকে দুদকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেবিচকের ১৪ জন কর্কর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা তা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায়। দুদক সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে হাবিবুর রহমানের দূর্নীতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানায়। এরপরও সিভিল এভিয়েশনের বোর্ড সভায় গত ১৯ নভেম্বর তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সিভিল এভিয়েশনের নিয়মে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। আগে কখনও দেওয়া হয়নি। কিন্তু হাবিবুর রহমানের বেলায় সেই নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে। এর আগে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী নুরুউদ্দীন ও আমিনুল হাসিবকেও স্থায়ী করা হয়নি। চলতি মাসের ২৩ তারিখ হাবিবুর রহমানের অবসরে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে হাবিবুর রহমানে চুক্তিভিত্তিক প্রধান প্রকৌশলী করতে একটি পক্ষ মরিয়া।’

অভিযোগে অঅরও উল্লেখ করা হয়, ‘বিমানবন্দরের উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে গত ২৭ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মুহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী) মো. হাবিবুর রহমানসহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।’

‘এরপরের দিন হাবিবুর রহমানসহ মামলার প্রধান আট আসামির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। তারা যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন সে বিষয়ে দেশের সব বন্দর, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।’

‘এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কেন  বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এসব কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে একপক্ষীয়ভাবে তাকে প্রধান প্রকৌশলী করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’

‘কেন একটি পক্ষ এত দুর্নীতির পরও হাবিবুর রহমানকে প্রধান প্রকৌশলী করতে মরিয়া, সেটি তদন্ত করারও দাবি জানানো হয়।’

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘হাবিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে আরও ৩ জন সেখানে যোগ্য প্রকৌশলী রয়েছেন। এরা হলেন— শহীদুল আফরোজ, জাকারিয়া হোসেন, শুভাশিষ বড়ুয়া।’

এদিকে গত ৩ মার্চ বেবিচকের বোর্ড সভায় হাবিবুর রহমান প্রধান প্রকৌশলী পদে আরও এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।

ওই সময় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘যোগ্য কর্মকর্তা না পাওয়ার কারণে তাকে আমরা মনোনিত করেছি।’