পল্লবীতে নারী ধর্ষণ: গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যেই রাজধানীর পল্লবীতে গত সোমবার রাতে আটকে রেখে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের আজ আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগ গতকাল মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুরে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি এনামুল হক (৩৮) ও তার এক সহযোগী হামিদুর রহমানকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। তাদের আজই আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার এনামুলের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের চরগোবিন্দ এলাকায়। আর হামিদুরের বাড়ি গাজীপুরের পূবাইলের মেঘডুবিতে। তারা দুই জনই বর্তমানে ঢাকায় থাকেন।

এ প্রসঙ্গে বুধবার (১৯ মার্চ) দুপুরে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ওই নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া এজাহারে উল্লেখিত অনেকে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে।

ওসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে আজই তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ আরও জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই নারী একটি পত্রিকায় কাজ করেন। মাটিকাটা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে ওই নারী রাজধানীর তুরাগ এলাকার বাসা থেকে সেদিন রাত ১১টার দিকে সেখানে যান। তখন কয়েকজন যুবক তাকে ধরে বারনটেকের গ্রিন সিটি এলাকার একটি নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় নিয়ে যায়। এরপর ১৬ জন ব্যক্তি তাকে ঘেরাও করে ফেলে। দিবাগত রাত ১টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ওই নারীকে ধর্ষণ করে তারা।

ধর্ষকেরা চলে যাওয়ার পর ওই নারী ৯৯৯–এ ফোন করেন। তখন ক্যান্টনমেন্ট থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল পল্লবী থানা এলাকা হওয়ায় তারা ওই নারীকে এই থানায় নিয়ে আসেন। ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে ওই নারী একটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে আট জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও আট জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, চল্লিশোর্ধ্ব ওই নারী বর্তমানে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ সেখানে তার ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।