নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, ‘জুলাই চেতনা বিক্রিকারী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে ধর্ষণ-নিপীড়নের চর্চা হচ্ছে।’
শুক্রবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘তিন মাসের মধ্যে প্রমাণিত ধর্ষকের ফাঁসি ও ধর্ষণ-নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিতে’ প্রতীকী কাফন মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্মম হলেও সত্য চলতি বছরের গত ছয় মাসে বাংলাদেশে যে পরিমাণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেই সংখ্যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া গত ছয় মাসে হাজারেরও অধিক ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। ৩৬ জুলাইয়ের চেতনা বিক্রিকারী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে ধর্ষণ-নিপীড়নের চর্চা হচ্ছে। যে কারণে মসজিদে যখন ময়নার মতো শিশুর লাশ পাওয়া যায়, যখন আমার মা আমার বোন ধর্ষিত হয়, সারা দেশে তখন তারা অতীত ফ্যাসিস্টদের পথ ধরে চেতনা ব্যবসায় নামে, জলকেলি করে। গণমাধ্যম যখন বলে, চলতি বছরের ছয় মাসে ৫ শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তখন আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থাকা বা না থাকার কোনও কারণ খুঁজে পাই না।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মুন্নি আলম, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াজেদ রানা, রুবেল আকন্দ, আফতাব মণ্ডল, আলেয়া বেগম আলো, হাফিজুর রহমান, জাতীয় শিক্ষাধারার সদস্য কাজী নওরীন, কাউসার হোসেন প্রমুখ।
এ সময় নেতৃবৃন্দ ধর্ষণ মামলাগুলোর রায় ও কার্যকর করার বিষয়ে আইন-বিচার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায় হলেও কার্যকর হয়নি গত ৬ বছরেও। এতে করে ধর্ষক-খুনিদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। সর্বশেষ আছিয়ার ধর্ষক-খুনিদেরও বিচার ঝুলে যাওয়ার সুযোগে ধর্ষকরা রামরাজত্ব তৈরি করছে।’
তারা আরও বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার চার ভাগের এক ভাগও মিডিয়ায় আসে না। কেবল আলোচিত এবং গ্যাং-রেপের মতো ঘটনাগুলো সামনে আসে। তারপর অপরাধীরা যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে কিন্তু সেই খবরটাও লোকাল মিডিয়া দিতে পারছে না। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, বিচার না হওয়ায় ধর্ষকরা গত ১১ মাসে ৮৭০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা নতুনধারার রাজনীতিকরা জনমানুষের রাজনীতি করি বিধায় গত ১৩ বছরে ৪৮ বার তিন মাসের মধ্যে প্রমাণিত ধর্ষকের ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবিতে রাজপথে দাঁড়িয়েছি। আগের ফ্যাসিস্টরাও ধর্ষকের পক্ষে থেকে নীরব ভূমিকা পালন করেছে, নব্য ফ্যাসিস্টরাও ধর্ষকদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।’