গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (১৭) জুলাই নিন্দা জানিয়েছে এক বিবৃতি দিয়েছেন তারা।
তারা বলেন, এই বর্বরতা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা নয় বরং জুলাই বিপ্লবের শীর্ষ নেতাদের হত্যার উদ্দেশে ঘটানো কাণ্ড। গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে বর্বরোচিত হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ইউএনওসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ সদস্যদের আহত করা অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন, এই হামলা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয় বরং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাকস্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। এমন ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ তাদের সন্ত্রাসীদের সারা দেশ থেকে গোপালগঞ্জে জড়ো করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগগুলো কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পাশাপাশি দিনে দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের সামনে বোমা হামলাসহ নানা অস্ত্র-সস্ত্র বহনকারীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্যণীয়।
বিবৃতিতে সই করেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহিব্বুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোন্দকার লুৎফুল এলাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মো.বরকত আলী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শামসুজোহা, অধ্যাপক ড. আবু খায়ের মোকতাদিউল বারী চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মো. সোহাইবুর রহমান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. কবীর উদ্দিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এএফজি মাসুদ রেজা, ডুয়েটের শেখ মো. রোকনুল ইসলাম, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঈদ বিন কামাল চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান সাঈদী, মোহাম্মদ ফায়সাল, আইইউবিএটির অধ্যাপক ড. মো. মমতাজুর রহমান, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ড. মো. মনজুর হোসেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাহ্ মো. তানভীর সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. মিজানুর রহমান, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ড. মো. শামিম মন্ডল, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের মো. আলমগীর কবীর রাজ্জাকী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউছার আহমেদ, মো. লিমন হোসেন, ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির রাশেদ মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদুর রহমান সাঈদী।
এছাড়াও উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহবুব আলম, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মো. সোহেল রানা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড. শামীম হামিদী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসান মাহমুদ সাকী, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল বশির, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিবুল ইসলাম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহহিল বাকী, নিপসমের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মো. জামিউল ইসলাম, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. জিল্লাল হোসাইন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ইকবাল সরোয়ার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মো. ইউসুফ আলী, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের দিদার মুহাম্মদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মোহাম্মদ সোহাইব, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মিসবাহ উদ্দিন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আসাদুজ্জামান এবং উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।