‘বাড়ি যেতে চেয়েছিল শিশুটি, কৌশলে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা’

কমলাপুর রেল স্টেশনে ১২ বছর বয়সী এক ছেলে শিশু বরিশালে যাওয়ার ট্রেনের শিডিউল সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল আল আমিন নামে এক যুবকের কাছে। এসময় শিশুটির সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয় আল আমিনের। পরে কৌশলে ওই শিশুকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে আল আমিন ও তার এক সঙ্গী। গত ১৩ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর এক আবাসিক হোটেলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল আমিনকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পুলিশ বলছে, আল আমিন একজন সিরিয়াল ধর্ষক। মূলত সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের ধর্ষণ করতো আল আমিন। তার প্রধান টার্গেট ছিল সুবিধাবঞ্চিত পুরুষেরা।

পুলিশ সূত্র বলছে, গত ১৪ জুলাই দুপুরে আনোয়ারা আবাসিক হোটেলের ২৫৬ নম্বর কক্ষ থেকে ১২ বছরের একজন ছেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। শিশুটির যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। এখনও শিশুটির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে পুলিশের ধারণা, শিশুটির বাড়ি বরিশালে।

তদন্ত সূত্র বলছে, এ ঘটনায় হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আল আমিন ও তার সঙ্গী সাদ্দামকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। গত ১২ জুলাই রাতে আল আমিন ও সাদ্দাম ওই শিশুটিকে নিয়ে আনোয়ারা আবাসিক হোটেলে উঠে। এরপর দুইজন মিলে শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৩ জুলাই তারা হোটেল থেকে পালিয়ে যায়। ১৪ জুলাই শিশুটির মরদহ উদ্ধার করা হয় হোটেল কক্ষ থেকে। 

জানা যায়, এ ঘটনার পর থেকে থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইও তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পিবিআই’র কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়। এরপর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ১৮ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৯টার দিকে টঙ্গী রেল স্টেশন এলাকা থেকে অভিযুক্ত আল আমিনকে গ্রেফতার করে পিবিআই’র ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ ক্রাইমসিনের একটি টিম। পরে শনিবার (১৯ জুলাই) গ্রেফতার আল আমিন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রেফতার আল-আমিন একজন ভবঘুরে। সে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে মানুষ ভাড়া দিতো। বিভিন্ন রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনাল এলাকায় থাকতো। গত ১২ জুলাই সকালে আল আমিন ও সঙ্গী সাদ্দামের সঙ্গে কমলাপুর রেল স্টেশনে নিহত (অজ্ঞাত) ১২ বছরের শিশুটির পরিচয় হয়। শিশুটি তাদের কাছে বরিশালের ট্রেনের শিডিউল জানতে চায়। এসময় আল আমিন শিশুটিতে জানায় বরিশালে ট্রেন যায় না। পরে শিশুটি না খেয়ে আছে জানালে আল আমিন শিশুটিকে খাবার ও জুতা কিনে দেয়। এরপর শিশুটিকে সারাদিন তাদের সঙ্গে রেখে রাতে যাত্রাবাড়ীর আনোয়ারা (আবাসিক) হোটেলে নিয়ে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, শিশুটিকে হোটেলের ২৬৫ নম্বর রুমে নিয়ে প্রথমে আল আমিন ও পরে সাদ্দাম পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। এরপর শিশুটি খুবই অসুস্থ হয়ে পরে।

পরদিন ১৩ জুলাই আবার শিশুটির ওপর ধর্ষণ চেষ্টা হলেশিশুটি বাধা দেয়। এসময়সাদ্দাম তাকে বুকে লাথি দিয়ে খাট থেকে ফেলে দেয়। পরে আল আমিন শিশুটিকেশারীরিক নির্যাতন করে। এরপর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে বিকালেশিশুটিকে হোটেলের কক্ষে ফেলে রেখে আসামি আল আমিন ও সাদ্দাম পালিয়ে যায়।তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, আল আমিনকে গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে এসব ঘটনারস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আল আমিন বিভিন্ন রেল স্টেশনে ঘুরে বেড়াতো। অল্প টাকায় কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ীকেন্দ্রিক বিভিন্ন হোটেলে রাতযাপন করতো। তার বিরুদ্ধে একাধিক পুরুষ ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্ত নিজে পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছে। এসআই কবির হোসেন বলেন, নিহত ১২ বছরের ছেলে শিশুটির এখনও পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। তবে শিশুটির বাড়ি বরিশালে বলে জানা যায়। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নিহত শিশুটির বিস্তারিত বরিশালে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।