কমলাপুর রেল স্টেশনে থেকে কৌশলে যাত্রাবাড়ীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ১২ বছরের এক ছেলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আল আমিন নামে এক যুবক আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালত এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এদিন আসামি আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক কবির হোসেন জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। পরে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
পুলিশ বলছে, আল আমিন একজন সিরিয়াল ধর্ষক। মূলত সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের ধর্ষণ করতো আল আমিন। তার প্রধান টার্গেট ছিল সুবিধাবঞ্চিত পুরুষেরা।
পুলিশ সূত্র বলছে, গত ১৪ জুলাই দুপুরে আনোয়ারা আবাসিক হোটেলের ২৫৬ নম্বর কক্ষ থেকে ১২ বছরের একজন ছেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। শিশুটির যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। এখনও শিশুটির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে পুলিশের ধারণা, শিশুটির বাড়ি বরিশালে।
তদন্ত সূত্র বলছে, এ ঘটনায় হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আল আমিন ও তার সঙ্গী সাদ্দামকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। গত ১২ জুলাই রাতে আল আমিন ও সাদ্দাম ওই শিশুটিকে নিয়ে আনোয়ারা আবাসিক হোটেলে ওঠে। এরপর দুজন মিলে শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৩ জুলাই তারা হোটেল থেকে পালিয়ে যায়। ১৪ জুলাই শিশুটির মরদহ উদ্ধার করা হয় হোটেল কক্ষ থেকে।