আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদিন আদালতে সালমান এফ রহমানের উদ্দেশ্য বিচারক বলেন, আপনি কখনও দেশে চিকিৎসা নিয়েছেন? সালমান এফ রহমান মাথা নেড়ে হ্যাঁ-সূচক উত্তর দেন।
সোমবার (২১ জুলাই) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ প্রশ্ন করেন। এদিন দুপুর সাড়ে ১১টায় তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর কাঠগড়ায় থাকাকালীন শুনানির আগে একজন আইনজীবী অন্য একটি মামলায় ভুল চিকিৎসার বিষয়ে পিটিশন দাখিল করে শুনানি শেষ করলে বিচারক বলেন, এই দেশের মানুষ এখনও সুচিকিৎসা পায় না। যারা ধনী তারা বিদেশ যায়। আর গরিবরা চিকিৎসার অভাবে ভুগে।
পরে কাঠগড়ায় বসা সালমান এফ রহমানের দিকে বিচারক তাকিয়ে বলেন, এই যে আমাদের মাঝে আছেন সালমান এফ রহমান। আপনি কখনও দেশে চিকিৎসা নিয়েছেন? সালমান এফ রহমান মাথা নেড়ে হ্যাঁ-সূচক উত্তর দেন। বিচারক বলেন, করেননি। করলে এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি করতেন। অধিকাংশই যেত পাশের দেশ ভারতে চিকিৎসা করাতে। যা এখন মনে হয় বন্ধ। পাশের দেশ যদি নিজেদের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে পারে, আমরা কেন পারলাম না?
পরে বিচারক বলেন, একজন সরকারি কর্মচারীকে বিচারের দায়িত্ব দিলে কি মানুষ ন্যায়বিচার পাবে? অবৈধ আইনের পক্ষে আপনারা অনেকেই সাফাই গেয়েছেন। এসব প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি সালমান এফ রহমান।
বিচারক আরও বলেন, জনগণের টাকায় যেসব অফিস বানানো হয়েছে, সেখানে তাদের তো প্রবেশের কোনও সুযোগ নেই। বিচারব্যবস্থাকে মানুষের কল্যাণে নেওয়ার জন্য কেউ কাজ করেনি।
পরে সাড়ে বারোটার দিকে তাকে গ্রেফতার দেখানো বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। পরে বেলা একটার দিকে তাকে এজলাস থেকে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।