রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলার ঘটনায় দোষীদের বিচার দাবি মহিলা পরিষদের

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধর্ম অবমাননার অজুহাতে অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একইসাথে সকল সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির ঘটনার দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয় পরিষদের পক্ষ থেকে।

সোমবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ থেকে পাঠানো সভাপতি  ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সংবাদ মাধ্যমে লক্ষ্য করলাম যে, রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধর্ম অবমাননার অজুহাতে অভিযুক্ত এক কিশোরের বাড়িসহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশকিছু বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে ধর্মঅবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

আরও বলা হয়, আমরা লক্ষ্য করছি দেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করলাম  মাত্র একমাস আগে লালমনিরহাটে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বাবা-ছেলেকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে, রাজধানীর খিলক্ষেতে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর আল্টিমেটামের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বুলডোজার দিয়ে মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই সকল অপতৎপরতা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক বলে মনে করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এছাড়াও এই ধরনের ঘটনায় আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় জনমনে ঘৃণা, বিদ্বেষ  ও বিভক্তি বিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই ঘটনাসহ  সকল সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। কারণ এই সকল ঘটনার বিচার বা শাস্তি হয় না বলেই প্রায়শ এই ধরনের ঘটনাগুলো সমাজের মধ্যে ঘটে চলেছে।  মহিলা পরিষদ সকল ধর্ম, বর্ণ সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।