ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস্ ইউনিটের একটি চৌকস দল। গ্রেফতাররা হলো— তানভির হোসেন (৪২), এবং তৌহিদুজ্জামান তুহিন (৩১)।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জসীম উদ্দিন খান জানান, তানভির হোসেন দীর্ঘদিন একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো, তথ্য ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সে একটি প্রতারক চক্র গড়ে তোলে এবং সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার কাজে লিপ্ত হয়। এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের কখনও “হেড অব মর্টগেজ অ্যান্ড লোন”, কখনও “কমার্শিয়াল ম্যানেজার” কিংবা “ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি)” পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এরপর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বড় অঙ্কের বিমা রিকুইজিশন জমা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতো। তারা মোবাইলে ০ সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতো।
জনৈক কাশেম (ছদ্মনাম) এই প্রতারণার শিকার হয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এই মামলার সূত্র ধরে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ভুয়া পরিচয়পত্র ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ সিআইডির কাছে এসেছে, যারা একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
মামলাটি বর্তমানে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস্ ইউনিটে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় সিআইডি।