চাঁদাবাজির ঘটনায় রিয়াদ জড়িত, অন্যরা জানতো না: ছাত্র সংসদ নেতা

রাজধানীর গুলশানে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম ওরফে অপুর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি তিনি বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় রিয়াদ জড়িত, অন্যরা কেউ জানতো না। চাঁদাবাজির ঘটনা আছে আমরা জানতাম না, রিয়াদের ডাকে সেখানে গিয়েছিলাম।  

শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে এ কথা জানান। এদিন বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, পেছনে হাত কড়া ও হেলমেট পরিয়ে তাকে আদালতে আনা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ আলম অভি ও সাজেদুল ইসলাম রুবেল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। 

শুনানিতে তারা বলেন, এ মামলার সঙ্গে তিনি জড়িত না। মামলার এজাহার ও ফরোয়ার্ডিং এ তার নাম, পিতার নামের মিল নেই। সে ঘটনার সময় সেখানে ছিল না। তাকে ফাঁসানোর জন্য এ মামলা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদকে বিতর্কিত করার জন্য এ মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আগে ছাত্রদল করতেন। জুলাই আন্দোলনের পর তারা নতুন ধারার রাজনীতি করতে চেয়েছে। 

এরপর রাষ্ট্র পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল কাইয়ুম নয়ন বলেন,  স্বাধীনতার পর জুলাই যোদ্ধা দাবি করে আমরা চাঁদাবাজি করবো? তারা জুলাই আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। সশরীরে সেখানে উপস্থিত ছিল। জুলাই আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার জন্য তারা চাঁদাবাজি করেছে। তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি টাকা কার কাছে আছে, জানা দরকার। তার ১০ দিনের রিমান্ড চাই। 

পরে জানে আলম বিচারকের কাছ থেকে কিছু বলার জন্য অনুমতি নেন। বিচারক বলেন, আপনার আইনজীবীর বলার বাইরে কিছু থাকলে বলেন। পরে তিনি বলেন, অলরেডি এ মামলার আসামি রিয়াদ গ্রেফতার হয়েছে। রিয়াদ বাদে এ মামলায় আর কেউ জড়িত না। রিয়াদের ডাক আমরা গিয়েছিলাম। এখানে চাঁদাবাজির কোনও ঘটনা আছে, আমরা জানতাম না। রিমান্ডের আবেদন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এজাহারে যা আছে, ফরোয়ার্ডিং এ বিষয়ে কিছু নেই। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।  

পরে বিচারক মামলার তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, নামটা কীভাবে লিখলেন? এজাহারের সঙ্গে ফরোয়ার্ডিং এর নাম মিলে না কেন? 

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সময় নিক নেম থাকে। কিন্তু এরপর সব জানা যায়। পুরো নাম জানা যায় না। সে হিসেবে তার সঠিক নামটা জানা যায়নি। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী আমরা নাম দিয়েছি। 

পরে আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, ২৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টায় এ ঘটনা, আশেপাশে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। এ আসামি সেখানে ছিল কিনা, সেখানেই দেখা যাবে। একটা ফ্যাক্ট কখনও চাপা থাকে না। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করলেই দেখতে পাবেন। মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে মামলাটা আনা হয়েছে। মামলার একচুয়াল ফ্যাক্ট নেই।