ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আকাশে ওড়ানো হয় শতাধিক হেলিকপ্টার-আকৃতির রঙিন বেলুন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই প্রতীকী বেলুন উৎসব হয়ে ওঠে দিনটির অন্যতম আকর্ষণ।
বেলা ২টা ২৫ মিনিটে পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়। এ সময় বেলুন উৎক্ষেপণ পর্বে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল, নীল, হলুদ ও সাদা রঙের ধোঁয়া। শতাধিক রঙিন ফ্লেয়ার জ্বালানো হয় এবং হেলিকপ্টারের আদলে যার মাধ্যমে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী সরকারের পতনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয় শেখ হাসিনার দেশত্যাগকে।
আয়োজকরা জানান, ‘স্বৈরশাসক গত বছর ৫ আগস্ট বেলা ২টা ২৫ মিনিটে হেলিকপ্টারেই পালিয়ে যায়। তাই এই বেলুনগুলো সেই মুহূর্তের স্মরণ এবং বিদায়ের প্রতীক।’ এই বেলুন ওড়ানোর সময় উপস্থিত জনগণ ‘ভয় নয়, বিজয়’ স্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো এলাকা।
এমন প্রতীকী কর্মসূচিকে অনেকেই দেখছেন সৃজনশীল প্রতিবাদের নতুন রূপ হিসেবে। অনুষ্ঠানে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, এই বেলুন ওড়ানো শুধু নয়নের আনন্দ নয়, বরং প্রতীকীভাবে অত্যাচারের অবসানকে চিহ্নিত করার অভিনব উপায়।
শিশুরাও ছিল উৎসবের অংশ
উৎসবমুখর পরিবেশে শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই হাতে বেলুন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল অপেক্ষায়, কখন আকাশে উড়বে সেই ‘স্বৈরাচার পতনের প্রতীক’।
পরিবার নিয়ে আসা এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলেকে এই দৃশ্য দেখাতে চেয়েছিলাম, যেন সে জানে এক সময় এই দেশে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল এবং জিতেছিল।’
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় সফল আয়োজন
পুরো বেলুন কর্মসূচি চলে নির্ধারিত সময় ধরে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে। স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় শৃঙ্খলা বজায় রেখে বেলুনগুলো ধাপে ধাপে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুরো আয়োজনেই ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক নজরদারি।