ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেছেন, উচ্চাভিলাষী বড় অঙ্কের বাজেট প্রণয়ন না করে বাস্তবায়নযোগ্য যৌক্তিক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেট প্রকাশের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ৩ হাজার ৮৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদিত হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর অতিরিক্ত করারোপ বা কর হার বৃদ্ধি না করে ক্ষেত্রমত বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।
রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ডিএসসিসির রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরবাসীর ওপর বিদ্যমান করহার বৃদ্ধি না করে করজাল বৃদ্ধি এবং রাজস্বের নতুন নতুন উপখাত সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাজেট কেবল গাণিতিক সংখ্যা নয়, এটি ডিএসসিসির কাছে সম্মানিত করদাতাদের আমানত বলেও আখ্যায়িত করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
উল্লেখ্য, ডিএসসিসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৩২০.৪৩ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় ৬৩৫.৩৩ কোটি টাকা, ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন ব্যয় ৮৭৬.৬৪ কোটি টাকা এবং মোট ডিএসসিসি, সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তায় উন্নয়ন ব্যয় বাবদ ১৪৬৯.২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বাজেটের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো খাতে ৩৬৫.১১ কোটি, খাল উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন খাতে ১১৫.০০ কোটি, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ৫৭.২০ কোটি, মশক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য খাতে ৫৭.৪৪ কোটি, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ উন্নয়ন খাতে ৫.২৬ কোটি এবং কল্যাণমূলক খাতে ১৩.৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপন অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।