সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে কনকসাস’র মানববন্ধন

গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতি (কনকসাস)।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় কবি নজরুল কলেজের মূল ফটকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে ‘সাংবাদিক হত্যার বিচার চাই’, ‘মুক্ত গণমাধ্যম চর্চার সুযোগ চাই’, ‘সত্য বলা কি অপরাধ? তাহলে সাংবাদিক হত্যা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’ লেখা সম্বলিত প্লাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়ান সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা।

মানববন্ধনে কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতি’র (কনকসাস) সাধারণ সম্পাদক মো. বাইজীদ হোসেন সা’দ বলেন, ‘সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণহানি নয়, এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর এক নির্মম ও বর্বর আঘাত। একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনা একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের বাকরুদ্ধ করেছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু, সেই দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতা আজ গাজীপুরের রাস্তায় সাংবাদিক তুহিনের রক্তে লেখা হয়েছে। এই দায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না।’

কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতি'র (কনকসাস) সভাপতি মো. আতিক হাসান শুভ বলেন, ‘প্রকাশ্যে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আমি নির্বাক। এটা এই সরকার ও প্রশাসনের দুর্বলতার জানান দেয়। দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আইনের শাসন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র কিছুই থাকবে না।’

কনকসাস’র সভাপতি আরও বলেন, ‘সব সরকারের শাসনামলেই গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার একটা নোংরা মন মানসিকতা বিদ্যমান থাকে। সাংবাদিকরা দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির নিউজ করলেই মারধর, জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়। বিগত সময়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি ঠিকভাবে হতো তাহলে আজ আর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতো না।’

অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।