তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষককে রাষ্ট্রদূত নিয়োগে সমালোচনা

তুরস্কের আঙ্কারা ইলদিরিম বেয়াজিট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নাজমুল ইসলামকে মালদ্বীপে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত হিসাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছে না সাবেক কূটনীতিকরা। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংস্কৃতি আবার ফেরত আসার আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের মতে রাষ্ট্রদূত হওয়ার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন, সেটিকে বিবেচনায় নিলে অনেক ধরনের জটিলতা ও বিরূপ প্রচারণা পরিহার করা সম্ভব। 

৩০ বছর পার হওয়া নাজমুল ইসলাম গত এক দশক ধরে তুরস্কে অবস্থান করছেন। তার সহধর্মিনী তুরস্কের একজন নাগরিক এবং সেখানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি মালদ্বীপে রাষ্ট্রদূত হিসাবে তার এগ্রিমো (অনুমোদন পত্র) চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

এ বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রথম যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—তার মধ্যে একটি ছিল চুক্তিভিত্তিক পদায়ন বন্ধ করা এবং নতুন করে কাওকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়া। এর আওতায় প্রথম মধ্যে পাঁচ মাসের মধ্যে (ডিসেম্বর পর্যন্ত) অন্তত ১২ জন পেশাদার কূটনীতিক রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয় এবং তারা অবসরে চলে যান।’

যাদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল বা যারা অবসরে গিয়েছিল তাদের প্রায় সবারই ৩০ বছরের বেশি কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল। তাদের যদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়া হয়, তবে অনভিজ্ঞ, অল্প বয়স্ক এবং বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন একজন ব্যক্তিকে কেনও এ ধরনের নিয়োগ দেওয়ার দরকার পড়লো, সেটির ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে তিনি জানান। 

আরেকজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, ‘প্রভাবশালীরা নিজেদের মতো করে নিয়ম বানিয়ে নেন। অভিজ্ঞ এবং দক্ষ কূটনীতিকদের অবসরে পাঠানোর সময়ে বলা হয়েছিল, এর মাধ্যমে যেসব কূটনীতিকরা চাকরিতে আছে, তারা সুযোগ পাবে। এখন আবার সেই নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনভিজ্ঞ একজনকে কূটনীতিককে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’