শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ ১১ দাবি গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন এবং শ্রম আইনের সংশোধনসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এ দাবিগুলো তুলে ধরে সংগঠনটি।

'অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১ বছর, শ্রমিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক সভায় বাংলাদেশ পোশাক গার্মেন্ট সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম চৌধুরী পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশন ২০২৪’র প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দীনা সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ, নাট্যকর্মী ঋতু সাত্তার, দৃশ্যমাধ্যম সমাজের সংগঠক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান, নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব, শ্রম বিকাশ কেন্দ্রেরর পরিচালক সীমা দাস সিমু, বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া এবং ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ।

শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী মাজহারুল ইসলাম ফকির, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ। সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শ্রমিক তফাজ্জল হোসেন, গ্রীন-বাংলা গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা শ্রমিক নেতা রাজু আহমেদ, শামীম ইমামসহ প্রমুখ।

বক্তারা গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির ১১ দফার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, সরকার জুলাই ঘোষণা বা সনদে শ্রমিকদের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। এমনকি ঐকমত্য কমিশনের শ্রম ও নারী বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে শ্রমিকের আকাঙ্ক্ষা, জান-জীবিকা ও জবানের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শ্রম খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করছে। কিন্তু এখনও শ্রম আইনের যথাযথ সংশোধন সম্পন্ন হয়নি এবং কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। তারা বলেন, সরকারের বিচার-সংস্কার এবং নির্বাচন এই রোড ম্যাপের সাথে শ্রমিকের দাবি বাস্তবায়নের কোনও বিরোধ নেই। তাই নির্বাচনি ডামাডোলে প্রবেশ করার আগে সরকারকে উদ্যোগী হয়ে দৃশ্যমান ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে এবং অবশ্যই শ্রম আইন সংশোধন করতে হবে।

শ্রম কমিশন ২০২৪-এর প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ বলেন, দেশের সকল শ্রমিক সংগঠন ও অংশীজনদের সাথে নিয়ে শ্রম সংস্কার কমিশন সুপারিশ করতে পেরেছে, এটি একটি অর্জন। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সকল শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

আলোচকরা আরও বলেন, পোশাক খাতসহ শ্রম খাত উন্নয়ন করতে হলে শ্রমিকের জীবনমান বদলাতে শ্রমিকপক্ষের আইন, মজুরি, মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কেবল কারখানার বা মালিকের উন্নয়নে শ্রম খাত উন্নয়ন হবে না। একইসাথে তারা বলেন, দেশীয় পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে শ্রমিক আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত ও দাবি উত্থাপন জরুরি।

আলোচনা সভায় বক্তারা সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য এবং ১১ দফা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।