রাজধানীর ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জন্ডিসের চিকিৎসা করতে গিয়ে নবজাতকের হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তার পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চিকিৎসায় অবহেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া নবজাতকের হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
এর আগে, হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় শিশুটির বাবা নূরের সাফাহ্ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
ওই ঘটনায় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্ডিসের চিকিৎসা করতে গিয়ে নবজাতকের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ৩ এপ্রিল সাত দিনের নবজাতকের শারীরিক অসুস্থতার কারণের ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এ কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর অধীনে ভর্তি করেন মিরপুরের বাসিন্দা নবজাতকের বাবা মো. নূরের সাফাহ্। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা চলার সময়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ নবজাতকের বাবার। বিষয়টি নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নূরের সাফাহ্ জানান, সাত দিনের নবজাতকের বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি থাকায় ৩ এপ্রিল ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ফটোথেরাপি দেওয়ার জন্য। ভর্তির পরপরই তারা জানায়, দীর্ঘসময় আনইন্টারাপ্টেডলি থেরাপি নেওয়ার জন্য তারা দুই থেকে তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করতে দেবে এবং বাকি সময় ব্রেস্ট পাম্প করে দিলে তারাই নিজ দায়িত্বে শিশুকে খাইয়ে নেবে। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে কেউ শিশুর কাছে যেতে পারবে না এবং দেখতে পারবে না। রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মাও শিশুর কাছে যেতে পারবে না।
তিনি জানান, হাসপাতালের নিয়মানুযায়ী তার স্ত্রী শিশুকে রাত ১২টায় স্বাভাবিকভাবে খাইয়ে দিয়ে আসে। সকাল ৭টায় তারা পুনরায় খাওয়ানোর জন্য ডেকে নিয়ে গেলে মা অনেক চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারেনি, কারণ শিশুটি ঘুমাচ্ছিল এবং কোনোভাবেই ঘুম থেকে উঠছিল না। কর্তব্যরত নার্স জানায়, ঘুম থেকে উঠলে খাওয়ানোর জন্য ডেকে দেবে। তখন আবারও ব্রেস্ট পাম্প করে তাদের কাছে খাওয়ানোর জন্য দিয়ে আসেন শিশুটির মা।
নূরের সাফাহ্ আরও জানান, পরের দিন সকাল ১০টায় ডিউটি চিকিৎসক জানান, শিশুর বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে তাকে রিলিজ দিয়ে দেবে। ১১টার দিকে তারা শিশুকে তার মায়ের কাছে দিয়ে যায় এবং জানায়, শিশুর ডান হাতে ক্যানোলা পরানোর কারণে ব্যথা আছে তাই এই হাত যেন কম নাড়ানো হয়। তখন শিশুটি ঘুমাচ্ছিল এবং শরীর কাঁথা দিয়ে মোড়ানো ছিল। বাসায় নিয়ে আসার পর কাঁথা থেকে বের করে খাওয়ানোর চেষ্টা করার সময় দেখা যায়, শিশুর ডান হাত কনুইয়ের ওপরে ভাঙা। বিষয়টি বোঝার সঙ্গে সঙ্গেই পুনরায় তাকে ডেলটা মেডিক্যাল কলেজের নেওনেটাল ওয়ার্ডে নেওয়া হয়, যেখানে সে ভর্তি ছিল। তখন ডিউটি চিকিৎসক জানান, তিনি নিজে চেক করে দিয়েছিলেন ডিসচার্জ করার আগে এবং তাদের দাবি, বাসায় নেওয়ার পর টানাটানিতে শিশুরে হাত ভেঙেছে। এ পর্যায়ে তারা একটি এক্সরে করার অ্যাডভাইস দিয়ে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।