অনলাইনে একের পর এক হয়রানি আর গুজবের শিকার আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সামাল দিতে কখনও ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন, কখনও লাইভে এসে নানা আহ্বান জানাচ্ছেন। কেন হুট করে তাকে এসবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে? এই আইনজীবী মনে করেন, স্বাধীনতাবিরোধী যারা- জামায়াত ইসলামী থেকে শুরু করে তাদের বাচ্চা-কাচ্চারা তার পিছে লেগেছে।
গত সপ্তাহে হঠাৎ একটি পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়, যাতে লেখা ছিল—ড. কামাল ও তার নেতৃত্বে শোক র্যালি যাবে ৩২ নম্বর অভিমুখে, স্বাধীনতার সপক্ষের সবাই প্রস্তুত হন। এরপর তিনি তার ভেরিফায়েড পেজ থেকে জানান, সদ্য গঠিত সংগঠন একাত্তর মঞ্চের নামে শোক মিছিলের যে পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, তা সঠিক নয়।
এরপরই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এডিট করা অশালীন ছবি। নেটিজেনরা সেটা জেড আই খান পান্নার ছবি বলে চালানোর চেষ্টা করলে আবারও ব্যাখ্যা হাজির করে তার বিরুদ্ধে ঘটা ষড়যন্ত্রের কথা জানান।
নিজের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন গুজব প্রচারের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে জেড আই খান পান্না বলেন, আমি জানি, স্বাধীনতাবিরোধী যারা- জামায়াত ইসলামী থেকে শুরু করে তাদের বাচ্চা-কাচ্চারা এসব করছে। বিগত বিএনপি-আওয়ামী লীগ আমলেও এমনটা দেখিনি। এখন কোনও পোস্ট করলে সেখানে বাজে বাজে কমেন্ট করছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকেই হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি করা হয়েছিল। এরপরও সময়ে সময়ে আলোচনায় উঠে আসেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীর নাম। সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে কিছু অশালীন ছবির মাধ্যমেও গুজব ছড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়।
এসব অপপ্রচার বা গুজবের কোনও শেষ আছে কিনা জানতে চাইলে জেডআই খান পান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অবশ্যই শেষ আছে। আমার বয়স প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি। আমাকে অনেকে অনেক কথা বলে। বিএনপি-আওয়ামী লীগের আমলেও এত ন্যক্কারজনক কমেন্ট পাইনি। এখন পাই। শিক্ষিত যারা তারা এসব করে না। তবে এরও শেষ আছে।
মূলত স্বাধীনতার পক্ষে, দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে হেনস্তা করে কাবু করার চেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করার কথা বলে আন্দোলনকারীরা নীতিগতভাবে যখন একাত্তরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেলো তখনই আমি সোচ্চার হয়ে উঠেছি। ৫ আগস্টের পর আর্মির চিফ তখনকার নিষিদ্ধ থাকা জামায়াত ইসলামী ও মামুনুল হকদের মতো লোকদের সামনে নিয়ে আসলেন, বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে। এসব কি? এখনও দেখছি চব্বিশকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। এসব দেখে আমি চুপ থাকতে পারি না।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে। যেখানে সমন্বয় করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন আইনজীবী জেডআই খান পান্না। সেই ‘মঞ্চ ৭১’-এর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, যেখানে একাত্তরের ওপর আঘাত আসবে সেখানেই আমি দাঁড়িয়ে যাবো। প্রয়োজনে একা পোস্টার-ব্যানার নিয়ে দাঁড়াবো। আমি সবার শান্তিপূর্ণ অবস্থান চাই, কাউকে আঘাত করে না।