ব্যবসায়ী এস আলমসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নাম স্বর্বস্ব একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের নামে ৮০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৮ আগস্ট) দুদকের উপ-পরিচালক আফরোজা হক খান বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, এভিপি ও মহিলা শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সৈয়দা নাজমা মালেকা এবং হুমায়রা সাঈদা খানম, ব্যবসায়ী মো. আকিজ উদ্দীন, চায়নিজ রেস্টুরেন্ট মেসার্স লা এরিস্টোক্রেসির মালিক নাজমে নওরোজ, জেড. আর. জে সার্ভে অ্যান্ড পরিদর্শক কোম্পানির মালিক মো. শফিকুল করিম, মিশকাত ট্রেড সেন্টারের মালিক মিশকাত আহমেদ, আরিফ হাসনাইন রাবার সাপ্লাইয়ারের মালিক মো. আরিফ হাসনাইন, নূর ট্রেডার্সের মালিক মো. জসিম উদ্দিন, মেসার্স মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জুয়েল মিয়া, রিমঝিম শাড়ি হাউজের মালিক মো. জুয়েল মিয়া, মেসার্স আগমন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. এরশাদ সিকদার, এম. এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মনিরুল হক, নিউ বসুন্ধরা জুয়েলার্সের মালিক যিশু বণিক, মেসার্স আল মদিনা স্টিলের স্বত্বাধিকারী মো. অলমগীর ও হক মেরিন ফিশের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুল হক। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ ইকবাল ফারুককেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে ঋণসীমা অতিক্রম করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেসার্স লা এরিস্টোক্রেসি নামের প্রতিষ্ঠানের নামে ১৫২টি ঋণ দেখিয়ে ৭৯ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮৪ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে এসব টাকা নগদ, পে-অর্ডারের মাধ্যমে অন্য হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়। গণমাধ্যমে ‘চটপটির দোকানে ২৩৪ কোটি টাকা ঋণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর দুদক বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করে। প্রথমে নিয়ম মেনে মাত্র কয়েক কোটি টাকার ঋণ নিলেও ধীরে ধীরে সেই সীমা অতিক্রম করে কয়েক বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে নেয়। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি মহিলা শাখা থেকে মেসার্স লা এরিস্টোক্রেসি নামে অনুমোদিত ঋণই হয়ে উঠেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের বড় কেলেঙ্কারি।

অভিযোগে বলা হয়, নাজমে নওরোজ ২০০৮ সালে লা এরিস্টোক্রেসি নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন এবং ২০১১ সালে ব্যাংকের কাজীর দেউড়ি মহিলা শাখায় একটি হিসাব খোলেন। ওই বছরেই তিনি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন ও সরঞ্জাম কেনার জন্য ২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। বর্তমানে গ্রাহক নাজমে নওরোজের নামে তৈরি ১৫২টি ডিলের বিপরীতে ৭৯ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮৪ টাকা বকেয়া রয়েছে। অথচ তার অনুমোদিত ঋণসীমা ছিল মাত্র দেড় কোটি টাকা।