বৈষম্যাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোর মামলায় রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেছেন পুলিশ সদস্য শেখ আফজালুল হক। তিনি এই মামলার আসামি ও আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি এ আবেদন করেন।
এদিকে এই মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৬ জনের বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আলোচিত এ মামলায় পলাতক আট জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর এবিএম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালকুদার ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
এর আগে সকালে এ মামলার আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন– ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল হোসেন ও কনস্টেবল মুকুল।
গত ২৮ জুলাই এ মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ২ জুলাই এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরে এ মামলার পলাতক আট আসামিকে গ্রেফতারসহ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ১৬ জুলাই এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।