পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের সম্পদের হিসাব বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকালে এ তথ্য জানান দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে দুদকের কাছে।
দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হকের নামে ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের বিপরীতে তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯ টাকার তথ্য পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের নামে পাওয়া গেছে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য। তাদের নামে আরও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ থাকতে পারে। সে কারণে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
গাজী মোজাম্মেল হক দীর্ঘদিন পুলিশ সদর দফতরের সম্পদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এন্টি টেররিজম ইউনিটে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত আছেন।
দুদকের আবেদনের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজী মো. মোজাম্মেল হকের নামে থাকা ২১ দশমিক ৪৫ একর জমি জব্দের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব। এসব জমির মূল্য ২ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। এছাড়াও ওইদিন তার স্ত্রী-সন্তানের নামে থাকা জমি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং অবরুদ্ধের আদেশও দেওয়া হয়।
গত বছরের ২০ আগস্ট মোজাম্মেল দম্পতির দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. লুৎফর রহমান। তখন ‘ডিআইজির স্ত্রী ৬ হাজার কোটির মালিক’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।