‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ শিবির নেতাকে গুলি: কনস্টেবল কারাগারে

যশোরের চৌগাছায় গ্রেফতারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটক’ সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ মামলায় গতকালও (৯ সেপ্টেম্বর) একজনকে গ্রেফতার করে হাজির করা হয়েছে। তার নাম মো. আতিকুল ইসলাম। গ্রেফতার দুজনই ওই সময় চৌগাছা থানায় কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে তৎকালীন ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন আতিকুল। ২০২৬ সালে যশোরের চৌগাছা থানা এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতার করে থানায় নেওয়া হয়। এরপর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে পরিচয় জানার পর তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী দুজনকে আদালতে হাজিরের কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন রাতে তাদের চোখ বেঁধে অন্য স্থানে নিয়ে দুই হাঁটুতে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তবে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে আদালতে তোলা হয় তাদের। পরে শুনানি শেষে দুজনকে কারাগারে পাঠান আদালত। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিবির নেতারই পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থা। কারণ ওই সময় এ দুজনকেই গুলি করা হয়নি। গোটা বাংলাদেশেই বিরোধী রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের গ্রেফতারের পর কারও হাঁটুতে, কারও হাতে কিংবা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে বিকলাঙ্গ করা হতো। এটা বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিপীড়নেরই অংশ ছিল। এরই অংশ হিসেবে চৌগাছার ঘটনাটি ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।