জামিনের পর নতুন মামলায় ব্যারিস্টার আহসান হাবিবকে গ্রেফতারের আবেদন 

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়া। এ মামলায় জামিন আদেশ হওয়ার পর তাকে বনানী থানার আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।

বুধবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত জামিন দেন। 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আজ তার আইনজীবী ওমর ফারুক জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে জামিন দেন। পরে বিকালে বনানী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাকে আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামার হোসেন। পরে আগামী ১৩ অক্টোবর গ্রেফতার বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।’

গত শনিবার ভোর ৬টার দিকে গুলশানের ১১৮ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে গ্রেফতারের পর ওইদিনই আহসান হাবিবকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর দুদিন পরই তার জামিনের আদেশ এলো। তবে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন থাকায় আহসান হাবিব কারামুক্ত হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

গুলশানের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশানের ফজলে রাব্বী পার্কের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার হাতে উসকানিমূলক স্লোগান দেন। এসময় তারা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে পালানোর চেষ্টাকালে ৫ জনকে গ্রেফতার এবং তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব ফোনে ব্যবহৃত মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপে আসামিরা রাষ্ট্রকে ‘অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে’ নিজেরা সংগঠিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বলে পুলিশ দেখতে পেয়েছে। এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মাহাবুব হোসাইন ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

এদিকে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বনানীর ১১নং ও ৬নং সংযোগস্থলে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। তারা নাশকতা করার চেষ্টা করছিল। এ ঘটনায় পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধ আইনে বনানী থানায় মামলা করে।