ঢাকার হাইকোর্টের সামনে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে আশরাফুল হক নামে রংপুরের এক ব্যবসায়ীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় গ্রেফতার জারেজুল ইসলাম ওরফে জরেজ এবং তার প্রেমিকা শমীমা আক্তার ওরফে কহিনুরের ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিন রিমান্ডের আদেন দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিন সন্ধ্যায় আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ। শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিল না।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রধান আসামি জরেজ মিয়াকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেফতার হয়। অপরদিকে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শামিমাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের মাধ্যমে শামিমার সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে আশরাফুল হকের বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শামিমা। এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে কদমতলী এলাকার একটি বাসায় শামিমা ও তার পরকীয়া প্রেমিক জরেজ মিয়া দুজনে মিলে প্রথমে আশরাফুল হককে হত্যা করার পাশাপাশি লাশ সেই বাসার ভেতরে রেখে দেন। দুজনের পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার দুদিন পর ১৩ নভেম্বর আশরাফুল হকের লাশ সেই বাসার বাথরুমে নিয়ে ২৬ টুকরো করেন তারা। পরে দুটি ড্রামে ভরে সিএনজিযোগে দুজন শাহবাগ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের কোনায় পানির পামসংলগ্ন রাস্তায় রেখে পালিয়ে যান।
ওই ঘটনায় গত ১৪ নভেম্বর আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আশরাফুলের বন্ধু জরেজ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়।
গত ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে নীল রঙের দুটি ড্রামে আশরাফুলের খণ্ড খণ্ড মরদেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত না হলেও পরে আঙুলের ছাপ নিয়ে আশরাফুলের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। আশরাফুল হক (৪২) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ব্যবসায়ী আশরাফুলকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজুল ইসলাম ওরফে জরেজকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পরকীয়ার কারণে এ হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছে ডিবি।