যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

চার বছর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১ ডিসেম্বর) এ রায় দেন ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারি রাশেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি রুবেলকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে পরিবারকে দিতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার আগে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ থেকে, ২০১৯ সালে রুবেল এবং রিয়া আক্তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে রুবেল রিয়াকে নির্যাতন করে আসছিল। ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে রুবেল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পাঁচগাও এলাকায় যায়। ওইদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে যেকোনও সময় যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন রিয়ার বাবা মোতালেব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় রুবেল। মামলাটি তদন্ত করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুলফিকার আলী সরকার পরের বছরের ৩১ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে আজ সাজার রায় এলো।