ইউনিসেফের প্রণয়ন করা শিশু অধিকার বিষয়ক ১০টি অগ্রাধিকারের ইশতেহারে সই করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের ১২টি রাজনৈতিক দল।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণ ফোরাম, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, নাগরিক ঐক্য এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি এনসিপি এই এই ইশতেহারে সই করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে এসে রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ তাদের ছোটবেলার কথা স্মরণ করেন। কয়েকজন শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের মত বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেন। বাজেটে শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষার জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছেন সবাই। আর এসব কথা যেন কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ না থাকে সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বক্তাদের কয়েকজন।
ইউনিসেফের এই ইশতেহারের ১০ দফার মধ্যে রয়েছে- শিশু সুরক্ষায় ঘাটতি দূর করা, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ তৈরি, সব শিশুর জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, শিশুদের জন্য জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ, উন্নত পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, প্রতিটি শিশুর জন্য ভবিষ্যতের সুযোগ অবারিত করা, সব শিশু যেন জন্মনিবন্ধনের আওতায় আসে, কোনো শিশু যেন অদৃশ্য না থাকে, শিশুদের প্রয়োজন বিবেচনায় বাজেট এবং শিশু ও তরুণদের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “আমাদের তরুণেরা একটি অধিকতর ন্যায্য বাংলাদেশের জন্য, নতুন আশা এবং সুযোগের জন্য পরিবর্তন চেয়েছে। তারা বিশেষ সুবিধা বা স্বার্থপর দাবি জানায়নি। তারা মর্যাদা চেয়েছে। তারা তাদের মৌলিক অধিকার চেয়েছে—শিক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি, তাদের কমিউনিটিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। তারা চেয়েছে সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা, যাতে তাদের সম্মান করা হয় বা রক্ষা করা হয় এবং তাদের কথা শোনা হয়।
তিনি আরও বলেন, “এই ইশতেহার রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে শিশুদের রাখতে পারা নিয়ে একটি প্রকৃত সংকল্পের বার্তা দেয়। রাজনৈতিক অঙ্গনের দলগুলি আজ কেবল সই করতে নয়, বরং বাংলাদেশের শিশুদের কাছে প্রকাশ্যে তাদের প্রতিশ্রুতির বার্তা দিতে এসেছেন।”