ধানমন্ডিতে মারধরের শিকার সেই রিকশাচালক আজিজুরকে অব্যাহতির সুপারিশ

শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ধানমন্ডি ৩২-নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার পর গ্রেফতার রিকশাচালক আজিজুর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ। জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হলেও কোনও প্রমাণ পাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে  ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(এ) ধারায় গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অন্তর্বর্তী বা অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। তবে বিচারক এখনও অব্যাহতির আদেশ দেননি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক তৌহিদুর রহমান সূত্রে অব্যাহতির এ সুপারিশের ব্যাপারে জানা গেছে। সম্প্রতি এ তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করে এবং আরও বিস্তারিত তদন্ত করে রিকশাওয়ালা আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৭৩ (এ) ধারায় অব্যাহতি দেওয়া সমীচীন এবং ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের সময় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি মডেল থানার ৩২ নাম্বারের মিরপুর রোড এলাকায় ফুল দিতে গেলে কিছু মানুষের রোষানলে পড়ে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর রহমান। পরে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা ও গোপন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ধারণা করা হয়, আজিজুর রহমান আগের একটি অস্ত্র মামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। থানায় নেওয়ার পর তার আচরণ ‘সাধারণ রিকশাচালকের মতো মনে হয়নি’ এবং ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য বা তাদের সোর্স’ হতে পারেন।

আজিজুরের ফুলের তোড়ায় লেখা ছিল ‘১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে সাধারণ রিকশাওয়ালা হিসেবে সৎ উপার্জনের টাকা দিয়ে ফুল কিনেছি। আমি কোনো দল করি না, শুধু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি।’ এই লেখাও সন্দেহ উস্কে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১৫ আগস্ট আজিজুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। ২ দিন পর জামিন পান আজিজুর। মামলার অভিযোগ থেকে, গত বছরের ৪ আগস্ট ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের নেতৃত্বে ছাত্র–জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ সময় আরিফুল ইসলাম নামের একজনের শরীরে গুলি লাগে। তিনি দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।