লিবিয়ায় সফল কর্মকাল শেষ করে বিদায় নিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার। তার সম্মানে ত্রিপলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কাজী আসিফ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদূতের অসাধারণ কূটনৈতিক সাফল্য ও জনবান্ধব কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা প্রদান, বিপদগ্রস্তদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আবুল হাসনাত খায়রুল বাশারের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন কর্মকর্তারা।
স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে সহকর্মীরা বিদায়ি রাষ্ট্রদূতের সুযোগ্য নেতৃত্ব, কর্মনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তারা বলেন, রাষ্ট্রদূত বাশার লিবিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার মেয়াদকালে লিবিয়ার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি তিউনিসিয়া, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর মতো সমবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
একইসঙ্গে তিনি ‘লিবিয়ায় কৃতী প্রবাসী সম্মাননা’ প্রবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণ, নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কনসুলার ও কল্যাণমূলক সেবা জোরদার, জনকূটনীতির মাধ্যমে জাতীয় গৌরব ও ঐতিহ্য প্রচার এবং আফ্রিকা নীতি বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন সহকর্মীরা।
পাশাপাশি ত্রিপোলীতে বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুলের পরিচালনা ও উন্নয়নেও তার সক্রিয় সম্পৃক্ততার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ি রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব পালনকালে দূতাবাসের সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও লিবিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মঙ্গল কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে দূতাবাসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ও তার পরিবারকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।